সুদেষ্ণা মন্ডল , দক্ষিন ২৪ পরগনা: গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে দক্ষিন ২৪ পরগনার গঙ্গাসাগরে পৌঁছালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধরবার হাওড়া জেলার ডুমুরজলা হেলিপ্যাড গ্রাউন্ড থেকে ১টা বেজে ৩৫মিনিটে গঙ্গাসাগরের উদ্দেশ্য রওহনা দেন। ২টো বেজে ১৪ মিনিট নাগাদ গঙ্গাসাগরের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন তিনি। গঙ্গাসাগরের হেলিপ্যাডে দাঁড়িয়ে সাগরের তীর্থযাত্রীদের জন্য বিশেষ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ গঙ্গাসাগরে হেলিপ্যাড উদ্বোধন করলেন তিনি৷ সেখানে তিনটি স্থায়ী হেলিপ্যাডের উদ্বোধন করেন তিনি৷
{link}
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই দিন পাঁচটি মন্দিরের প্রতিরূপ উদ্বোধন করেন৷ তিনি আরো জানান, গঙ্গাসাগরে অনেক মানুষ আসেন, তাঁরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই অংশে আসেন, কিন্তু নানাকারণে রাজ্যের কয়েকটি মন্দিরে তীর্থ করতে যেতে পারেন না৷ সেই কারণেই গঙ্গাসাগরে পাঁচটি জনপ্রিয় মন্দিরের আদলে প্রতিরূপ তৈরি করা হয়েছে৷ এই তালিকায় রয়েছে, তারাপীঠ, কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বর, তারকেশ্বর ও জহুরা কালীবাড়ির আদলে মন্দির৷ পাশাপাশি, গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলা ঘোষণার দাবিও করেন মমতা৷ গঙ্গাসাগরে দাড়িয়ে কেন্দ্রীর বিরূদ্ধে তোপ দেগে বলেন, উত্তরপ্রদেশের যে কুম্ভমেলা হয়, তার সমস্তরকম আর্থিক সাহায্য কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে পায় উত্তরপ্রদেশ সরকার৷ কিন্তু গঙ্গাসাগরকে একটি টাকাও অর্থ সাহায্য করে না কেন্দ্র৷ কিন্তু এটিই একমাত্র এত বড় মেলা যেখানে প্রায় ১ কোটি মানুষ জড়ো হন৷ একমাত্র মেলা যেটি বিপুল জলপথ পেরিয়ে আসতে হয়৷ এই মেলাকে জাতীয় মেলা ঘোষণা করা উচিত৷ পাশাপাশি, পরিকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের অসহযোগিতার অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি বলেন, আগে তেমন করে উন্নয়ন করা হয়নি গঙ্গাসাগরের ক্ষেত্রে৷ এখন গঙ্গাসাগরের চেহারা অনেক বদলেছে৷ এই সরকারের আমলে চেহারা পাল্টে সাগর এখন অনেক আধুনিক হয়েছে৷
{link}
বুধবার গঙ্গাসাগর হেলিপ্যাড-এর উদ্বোধনের পর গঙ্গাসাগরের ভারত সেবাশ্রম সংঘের আশ্রমে পৌঁছান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনায় স্বাগত জানানো হয়। আশ্রম পরিদর্শনের পর তিনি সেই আশ্রমে গরীব মানুষদের কম্বল বিতরণ করেন। তারপর সবশেষে পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে পৌঁছান কপিল মুনির আশ্রমে।
