নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া: বিক্ষোভের মুখে পড়ে মেজাজ হারিয়ে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে নিজের দলকেই বিপাকে ফেললেন তৃণমূল নেত্রী তথা সোনামুখীর ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অলকা সরকার। একই সঙ্গে নিজের দলের প্রতীকে নির্বাচিত অন্যান্য গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানদেরও কাঠগোড়ায় তুললেন তিনি। আর ৩৭ সেকেণ্ডের সেই ছবিই এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় 'ভাইরাল'। যদিও এই ভাইরাল ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করা হয়নি। নিজের মন্তব্যের কারনে বেজায় বিপাকে করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
{link}
সূত্রের খবর, গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পের তালিকায় নাম বাদ যাওয়া অনেকেই সোনামুখী ব্লক অফিসে হাতের কাছে ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অলকা সরকারকে পেয়ে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। আর ঠিক তখনই মেজাজ হারিয়ে তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'শোনো, বেশী বড় বড় কথা বলবেনা। ...অন্য পঞ্চায়েতের প্রধান সপ্তাহে দু'দিন যায়, জিজ্ঞাসা করো ডিহিপাড়া পঞ্চায়েতের প্রধান প্রতিদিন হাজিরা দেয়, প্রতিদিন। ...আমি কি তোমার দুয়ারে দুয়ারে বসে থাকবো নাকি!...'তোমরা মানুষ হলে এমন কথা বলতেনা'!
আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে দলের নেত্রী তথা ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অলকা সরকারের এই সরল স্বীকারোক্তিতে বেজায় অস্বস্তিতে শাসক শিবির। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে দলের তরফে সংবাদ মাধ্যমের কাছে এখনো পর্যন্ত কেউ-ই মুখ খুলতে নারাজ। এ প্রসঙ্গে 'সত্যি কথাটা বলার জন্য প্রধানকে ধন্যবাদ' জানিয়ে বলেন সোনামুখীর বিজেপি বিধায়ক দীবাকর ঘরামি। একই সঙ্গে ডিহিপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অলকা সরকারের বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'সপ্তাহে দু'দিন গিয়ে সাধারণ মানুষকে কি পরিষেবা দেন?' তৃণমূল নেতারা যখন বলেন, বিজেপি বিধায়ক-সাংসদের দেখা যায়না তখন ঐ প্রধান সত্যি কথাটা বলে ফেলেছেন! এছাড়াও একজন জনপ্রতিনিধি তথা প্রধান বিডিও অফিসের সামনে মানুষের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা যথেষ্ট নিন্দনীয় বলেও তিনি দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে বেশ জলঘোলা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
