Logo

সময়ের সম্মুখে

শেফিল্ড টাইমস

ডিজিটাল

Date: 13/06/2026 E-Paper
Advertisement
Care and Cure 1

শেষ দেখার অধিকার থেকেও বঞ্চিত ?

Loading... রাজ্য
শেষ দেখার অধিকার থেকেও বঞ্চিত ?
#Covid-19 #coronavirus #covid death #corona news #west bengal #Baltikuri Covid Hospital #India #Covid situation in India #Baltikuri ESI Hospital

দুপুরে হঠাতই ফোন করে জানানো হয়েছিল বাবা আর বেঁচে নেই। সেই ঘটনার তিনদিন পরেও কোভিড হসপিটাল থেকে মৃত বাবার দেহ পায়নি ছেলে। একধিক দেহ দেখালেও নিজের বাবার শেষ সাক্ষাৎ লাভ হয়নি সন্তানের। পরিবারের অভিযোগ হাওড়ার বালিটিকুরি কোভিড হাসপাতালের বিরুদ্ধে। ১৭তারিখে হাওড়ার জগৎবল্লবপুরের পাতিহালের বাসিন্দা আসরাফ আলি মিদ্দ্যের মৃত্যুর কথা জানানো হয় হাসপাতাল থেকে। তারপরে যাবতীয় নথিপত্র তৈরি করে ১৮ তারিখে হাসপাতালে গেলে ছেলেসহ পরিবারের লোকেদের যে দেহগুলি দেখানো হয় তারমধ্যে  আসরাফ আলি মিদ্দ্যের দেহ ছিলো না। তারপর থেকে ১৯তারিখ বিকেল পর্যন্ত বারেবারে হাসপাতালে যোগাযোগ করা হলেও দেহ তাঁদের দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ১৮তারিখে স্থানীয় বাঁকড়া পুলিশ ফাঁড়িতে একটি অভিযোগ পরিবারের তরফে জানানো হয় বলে পরিবারসুত্রে জানা গেছে।

{link}
এদিকে হাসপাতাল কতৃপক্ষের দাবি যে হাসপাতালে কোন এয়ার কন্ডিশন মর্গ না থাকার কারনে কোভিডে মৃত ব্যাক্তির দেহ দিনের দিনই কোভিড বিধি মেনেই সৎকার করা হয়। তারপরে এইরকম ভয়ঙ্কর কোন অভিযোগ থাকলে হাসপাতাল কতৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। মৃত ব্যাক্তির বাড়ির লোকের অভিযোগ মৃতদেহ দেখানোর আগেই হাসপাতালে সমস্ত কাগজে তাদেরকে দিয়ে সই করিয়ে নেওয়া হয়। প্রশ্ন হচ্ছে নিকট আত্মীয় বা পরিজন মৃতদেহ শনাক্তকরনের আগেই কিভাবে তাদেরকে দিয়ে কাগজপত্র সই করিয়ে নেওয়া হচ্ছে? আইনত কি তা করা যায়? হাসপাতালের অনুসন্ধান থেকে তাদেরকে মৃতদেহ দেখানো হবে এইরকম প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। গত দুদিনেরও বেশি ধরে তারা হাসপাতাল আর বাড়ি করেছেন তারা। স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক পদস্থ কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, তার অভিযোগ জানিয়েছেন। দুর্ভাগ্যের বিষয় তারপরেও তারা তার প্রিয়জনকে শেষ দেখা দেখতে পাননি। 

{link}
এক বছর আগে যখন করোনার প্রকোপ মহামারির আকার নিতে শুরু করেছে তখন হাওড়া জেলা প্রশাসনের নির্দেশে বালটিকুরি ই এস আই হাসপাতালকে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষনা করা হয়। কিন্তু এই হসপিটালকে নিয়ে মানুষের একাধিক অভিযোগ আছে। রুগীকে ভর্তি করার পরে কোন খবরই কার্যত পাওয়া যায়না হাসপাতাল থেকে। যে কারনে ভীষন রকম উদ্বেগের মধ্যে থাকেন রুগীর আত্মীয়রা। শুধু তাই নয়, কোভিড চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যাবহৃত পিপিই কিট, মাস্ক, গ্লাভস, মৃত রুগীর পোশাক যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে হসপিটাল ক্যাম্পাসে। গবাদি পশু কিংবা কুকুর সেই সব বিপর্জনক বজ্রপদার্থ আরো ছড়িয়ে দিচ্ছে হসপিটাল চত্বর জুড়ে। যে কারনে আশঙ্কার মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মুখে বলতে না পারলেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে হাসপাতালের সরকারি আবাসনে থাকা কর্মীদের মধ্যে। এককথায় হাসপাতাল কতৃপক্ষের চরম উদাসীনতা এবং কাণ্ডজ্ঞানহীনতার কারনে ক্রমেই আশঙ্কা বাড়ছে রোগীর আত্মীয় সজন থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। 


সর্বশেষ আপডেট: