উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরে শিয়ালদহ স্টেশনে নামা মাত্র ফের রাজনৈতিক বাগযুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার ট্রেন থেকে নেমে ফের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। ছুটির রাজনীতি দেখে রাজ্যের মানুষ এখন বোর হয়ে গেছেন। নির্বাচনের জন্য রাজ্য সরকার ছুটি ঘোষণা করছে। দীর্ঘদিন ছয় থেকে আট মাস অফিস-আদালত সবকিছুই বন্ধ ছিল, তারপরও এত ছুটি ঘোষণা করছেন কেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী? প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন ভবানীপুরে হেরে যাবেন বলে দুর্বল যায়গা থেকে ভোটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও এদিন মদন মিত্র প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন তিনি। কয়েকদিন আগে মদন মিত্র মন্তব্য করেছিলেন নন্দীগ্রামে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় না যেতেন তাহলে নিজের হাতের কব্জি কেটে ফেলবেন তিনি। সেই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই দিলীপ ঘোষ বলেন, জানিয়েছেন আগেই নিজের নাক কান কেটেছেন। এবার নিজের হাত কাটবেন। এছাড়াও এবার ভাটপাড়া কেন্দ্রে এবা হারের হ্যাটট্রিক করবেন মদন মিত্র বলেও ধারনা বিজেপির রাজ্য সভাপতির।
রাজ্য বিজেপির এক অন্যতম পরিচিত মুখ দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রীর নন্দীগ্রামের সভায় নিজেকে প্রার্থী ঘোষনা করার কার্যত এক নতুন মোড় এসেছিল দুই ফুলের রাজনৈতিক যুদ্ধে। এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের কি মতামত ও বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় বসেছিল রাজ্যবাসীরা। আজ তিনি জানালেন ভবানীপুরে হেরে যাওয়ার ভয়ে দুর্বল কেন্দ্র অর্থাৎ নন্দীগ্রামে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু অধিকাংশ রাজনীতিবিদদের মতে এবারের ভোটের লড়াইয়ের কেন্দবিন্দু হচ্ছে নন্দীগ্রাম। কিন্তু সেই নন্দীগ্রামের লড়াই কেই কি সেভাবে গুরুত্ব না দিয়ে দুর্বল কেন্দ্র হিসাবে ধরছে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বরা? নাকি নন্দীগ্রামের অন্যতম পরিচিত রাজনৈতিক মুখ শুভেন্দু দলে আসায় ঐ কেন্দ্রে জয়লাভ করার ব্যাপারে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী পদ্মফুলের শিবির? উত্তরটা হয়ত বোঝা যাবে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী ঘোষনা করার পর।
