কদিন আগেই পদ্ম শিবির ছেড়ে ফের নিজের পুরোনো আস্তানায় ফিরেছেন মুকুল রায়। জোট বেঁধে মুকুল কাঁটা উপড়াতে চাইছেন দিলীপ-শুভেন্দু, বিজেপির একটি সূত্রের দাবি এমনই। মুকুল রায় ছেলেকে নিয়ে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে গেলেও, গেরুয়া শিবিরে রেখে গিয়েছেন তার বেশ কয়েকজন অনুগামী। এখন এদের দিয়েই বিজেপি ভাঙানোর খেলায় মুকুল নামতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে গেরুয়া শিবিরে। এখন দলের ভাঙন রুখতে আর নিজেদের পিঠ বাঁচাতে নিজেদের সর্বস্ব নিয়ে ঝাঁপাচ্ছেন তারা।
বছর চারেক আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছিলেন মুকুল রায়। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতি কাছের মুকুল কেন বিজেপিতে এলেন, তা নিয়ে তখনই সন্দেহ দানা বাঁধে বিজেপির একটি গোষ্ঠীর নেতাদের মনে। তবে যেহেতু কলেবরে বাড়ছে দল, তাই মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন তাঁরা। সম্প্রতি ছেলেকে নিয়ে ফের তৃণমূলে গিয়ে ভিড়েছেন মুকুল। তবে বিজেপিতে তিনি জাল বিছিয়ে রেখেছেন বলে গেরুয়া শিবিরের দাবি। মুকুলের এই অনুগামীরাই দলের মাথাব্যথার কারণ বলে মনে করছেন গেরুয়া নেতৃত্ব। তাঁরাই দল ভাঙানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ।
{link}
মুকুল ঘনিষ্ঠ জন বার্লা এবং সৌমিত্র খাঁ আপাতত বিজেপিতে। তাঁরা নানা কারণে তৃণমূলকে গালমন্দও করছেন। তবে দলীয় লাইনের বাইরে গিয়ে তাঁরা সোচ্চার হয়েছেন পৃথক রাজ্যের দাবিতে। বার্লা তুলেছেন পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবি। আর সৌমিত্র রাঢ়বঙ্গের। বঙ্গভঙ্গের হাতে গরম ইস্যু পেয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে পড়েছে তৃণমূল। দলে বঙ্গভঙ্গের দাবি উঠতেই বিজেপি ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকেই। এমতাবস্থায় দলে ভাঙন রুখতে একজোট হয়েছেন শুভেন্দু-দিলীপ। তাঁরা এক সুরে জানিয়ে দিয়েছেন, বঙ্গভঙ্গের দাবি সমর্থন করে না বিজেপি।
{link}
আবার অন্যদিকে দলের মধ্যে অনেকেরই মতে ছিল অর্ন্তঃদ্বন্দ্ব, মুকুল রায়ের সাথে মতবিরোধ ছিল শুভেন্দু ও দিলীপের। এখন তিনি বেরিয়ে যাওয়ায় দল এখন দ্বন্দ্বমুক্ত। এখন কিভাবে আবার পুরোনো শক্ত ভীত ফিরিয়ে আনা যায় সেই কথাই মাথায় রেখে এগোচ্ছে বিজেপি। সামনে দুই নেতা শুভেন্দু ও দিলীপ।
