ভারতবর্ষের আইনে খাতা কলমে বহু আগেই আইনতভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হয়েছে পরকীয়া। যার ফলে বর্তমান সময়ে পরকীয়াকে আর অপরাধ বলে গন্য করা হয় না। কিন্তু আইনত মান্যতা পেলেও পরকীয়া যে বাংলার সমাজে আজও মান্যতা পায়নি তা ফের সামনে এলো বুধবার সকালে। যার প্রভাবে কার্যত যৌন হেনস্থার সম্মুখীন হতে হল গৃহবধূকে। মেদিনীপুরের দাসপুর থানার পাঁচবেড়িয়া করুনা চকের ঘটনা।
ওই এলাকার স্থানীয় এক গৃহবধূর স্বামী কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। বাড়িতে থাকেন শাশুড়ি আর বউমা। পাড়ার মাটির বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে নিরালায় তৈরি হয়েছে নতুন পাকাবাড়ি। সেই বাড়িতেই থাকে বৌমা। রান্না খাওয়া ওই বাড়িতেই হয়। তবে শাশুড়ি শুধুমাত্র খাওয়ার সময়ই নতুন বাড়িতে যেতেন। পাড়া প্রতিবেশীদের অভিযোগ, এই সুযোগেই কয়েক দিন আগে পূর্ব মেদিনীপুর এলাকার এক যুবককে রাতের অন্ধকারে বৌমা নিজের শোবার ঘরে এনে তোলে। এবং দিনের পর দিন রাতের পর রাত তারা পরকীয়া চালায়। বাড়ি ছেড়ে বেরোলেই গৃহবধূ শোবার ঘরে চাবি দিয়ে বেরোতেন। কিন্তু আজ সকালে চাবি না দিয়েই বাড়ির বাইরে বেশ কিছুক্ষণ বেরিয়ে যায় সেই গৃহবধূ। পাড়ার বউ এতক্ষণ ঘুমোচ্ছে? এই ভেবে সম্পর্কিত এক কাকীমা বৌমাকে ডাকতে গিয়ে দেখেন প্রায় উলঙ্গ হয়ে বৌমার বিছানায় শুয়ে এক অচেনা যুবক। সাথে সাথে দরজায় শিকল দিয়ে পাড়া প্রতিবেশিদের ডেকে আনা হয়। বাড়িতে শাশুড়ি আর বৌমা স্বীকার করে নেয়, ছেলেটির সাথে তার সম্পর্কের কথা। ফোনে সমস্ত বিষয় জানানো হয় ভিনরাজ্যে কর্মরত স্বামীকে। স্বামী সব শুনে ওই যুবকের সাথেই তাঁর স্ত্রীর বিয়ে দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে ওই প্রস্তাবে রাজি হয়নি স্ত্রী। বৌমা এবং ওই যুবককে বেঁধে চলে গণপ্রহার। গনধোলাইয়ের সাথে গৃহবধূকে কার্যত অকথ্য ভাষায় গালিগলাজ ও যৌন হেনস্থা করা হয়। পরে দাসপুর পুলিশ এসে যুবককে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। অন্যদিকে পাড়া প্রতবেশীরা বৌমাকে তার বাপের বাড়িতে খবর দিলে মেয়ের বাবা মেয়েকে নিয়ে যান বলে জানা গিয়েছে।
খাতায় কলমে পরকীয়া স্বীকৃতি পেলেও বর্তমান সমাজ যে এই পরকীয়া মেনে নিতে পারেনি তাই ফের সমাজের দর্পনে আরও একবার ফুঁটে উঠল। এর পাশাপাশি গৃহবধূটিকে হেনস্থা করার অধিকারই বা কে দিল জনগনকে সেই নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সমাজের বেশ কিছু মানুষজন।
