ফলতা থেকে ভোটের দিন চাঞ্চল্যকর ছবি উঠে এসেছিল। সেই ছবি কার্যত চমকে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশনকে। টেপ দিয়ে ঢাকা ছিল বিজেপিকে ভোট দেওয়ার বোতাম। ফলে, খুব স্পষ্টভাবেই উঠেছিল পুনর্নিবাচনের দাবি। ফলতায় EVM-এ কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর রিপোর্টে উঠে এসেছিল চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভোটের দিন সকালে ফলতার একাধিক বুথের ক্যামেরাই বন্ধ করা দেওয়া হয়েছিল। আবার একইসঙ্গে ইভিএমের বোতাম ঢেকে দেওয়া হয়েছিল টেপ দিয়ে।
দুপুর একটা নাগাদ 'টেপ রিভুমড' বলে তথ্য দিয়ে জানান প্রিসাইডিং অফিসার। কিন্তু, তার মধ্যে ৫৮% ভোট পড়ে গিয়েছিল ফলতায়। তবে, ফলতায় পুনর্নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে শুক্রবার রাত পর্যন্ত কিছু জানায়নি নির্বাচন কমিশন। কিন্তু কী হবে ফলতা নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত? সেই নিয়েই বর্তমানে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, গণনার পরেও ফলতায় পুনর্নিবাচন হতে পারে।
ফলতায় কী প্রক্রিয়ায় পুনর্নিবাচনের সম্ভাবনা রয়েছে?
সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর লক্ষ্য রেখে কী কী সিদ্ধান্ত হতে পারে ফলতা উপনির্বাচন নিয়ে? এই বিষয়টিকে নিয়ে নানারকম সম্ভাবনার কথা উঠে আসছে। শোনা যাচ্ছে, ফলতা নিয়ে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন। আজ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে পুনর্নিবাচন হলেও সেখানে ফলতার নাম নেই। তবে ফলতার পুনর্নিবাচন হতে পারে গণনার পরেও। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন অনুযায়ী গণনার পরেও পুনর্নির্বাচন করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ECI) । সেই আইন প্রয়োগ করার ক্ষমতা রয়েছে কমিশনের। আবার ফলতায় গণনার আগের দিনেও পুনর্নিবাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবারও রিপোল করাতে পারে কমিশন। ফলতা নিয়ে গতকাল রিপোর্ট পাঠানো হয়েছিল। তবে, এখনো কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথেও হাঁটতে পারে কমিশন।
প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২৩টা বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি করেছিল বিজেপি। ফলতা নিয়ে বিজেপির অভিযোগের পরই তৎপর হন খোদ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর নির্দেশেই স্ক্রুটিনির কাজ তদারকির জন্য় বৃহস্পতিবার সোজা ডায়মন্ড হারবারে পৌঁছে যান নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। আর শুক্রবার তাঁর রিপোর্টেই উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সূত্রের দাবি, বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তর রিপোর্ট বলা হয়েছে ভোটের দিন সকালে ফলতার একাধিক বুথের ক্যামেরাই বন্ধ করা দেওয়া হয়েছিল। নেটওয়ার্কের কারণে সেই তথ্য আসেনি নির্বাচন কমিশনের কন্ট্রোল রুমে। ফলতায় পুনর্নিবাচনের সম্ভাবনা কোনওভাবেই উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
