নিজস্ব সংবাদদাতা, নদীয়াঃ মৃত্যুর কোনরকম সার্টিফিকেট ছাড়াই দাহ করা হয় শ্মশানে, চাঞ্চল্যকর দাবি এলাকাবাসীর। কিভাবে দিনের পর দিন মৃতদেহ ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া দাহ করা হত তা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দিনের পর দিন কোনো কাগজপত্র ছাড়াই একজনের মৃতদেহ জ্বালিয়ে দেওয়া হয় সেই প্রশ্নই এখন জোরালো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
{link}
নাবালিকা গণধর্ষণের পর তার মৃত্যু হলে সেই শ্মশানেই কোনরকম কাগজপত্র ছাড়াই দাহ করে দেওয়া হয় তার দেহ। প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ কোন সূত্র ধরে এখন তদন্ত চালাবে। গত ৫ তারিখে ১৪ বছরের এক নাবালিকা এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য ছেলের জন্মদিনে অংশগ্রহণ করে গণধর্ষণের শিকার হন। সেই দিন ভোররাতেই বাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর এলাকাবাসী তড়িঘড়ি ওই নাবালিকাকে শ্মশানে গিয়ে দাহ করে দেয়। এরপরই অভিযোগ উঠছে কিভাবে শ্মশানে একজন মৃতদেহ কোনরকম বৈধ কাগজপত্র ছাড়া দাহ করে দেওয়া হতে পারে। এলাকাবাসীর দাবি এই প্রথম নয় এর আগেও ওই শ্মশানে কাগজ ছাড়াই একাধিক শব দাহ সম্পন্ন হয়েছে। শ্মশানে কাজ করা এক মহিলার দাবি এখানে কোন কাগজ পত্রের বিষয় নেই। দুই গ্রামের মানুষ এখানেই পরিবারের মৃতদেহ নিয়ে আসেন। সেখানে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের নজরে দিয়ে কিভাবে একটি শ্মশানের দিনের-পর-দিন কাগজ ছাড়াই মৃতদেহ জ্বালিয়ে দেওয়া হতো। প্রতিটি গ্রামে যেখানে বর্তমানের সিভিক ভলেন্টিয়ার প্রশাসনের সূত্র হিসেবে কাজ করে সেখানে দিনের পর দিন এত বড় ঘটনা তাহলে প্রশাসনের নজর এড়ালো কি করে।
{link}
নিয়মানুসারে অন্ততপক্ষে ৩ ঘন্টা না পার করলে দেহ পোড়ানো যায় না। সেক্ষেত্রে ডেথ সার্টিফিকেট যখন পাশ হয়নি, তখন আদৌ ওই নাবালিকার মৃত্যু হয়েছিল কি না তাকে জীবন্ত অবস্থাতেই পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল সেই বিষয়েও কিছু নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। যার ফলে মৃত্যু নিয়ে একাধিক ধোঁয়াশা দেখা দিয়েছে। কিভাবেই বা প্রভাব খাঁটিয়ে একটি দেহ কে সার্টিফিকেট ছাড়াই পুড়িয়ে রীতিমতো ছাইও ধুয়ে পরিস্কার করে দেওয়া হয়? আবার গ্রামে এহেন সার্টিফিকেট ছাড়াই নাকি পুড়িয়ে দেওয়া হয় মৃতদেহ। এ যেন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে উঠে আসা। একটি ঘটনার তদন্তে নেমে উঠে আসছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যার ফলে আরও জটিল হয়ে উঠছে তদন্ত।
