সুদেষ্ণা মন্ডল, দক্ষিন ২৪ পরগনা: শিশুর মনের ভাষা বোঝা বড় কঠিন তাই রবী ঠাকুর লুকোচুরি কবিতায় বলছিলেন,
“আমি যদি দুষ্টুমি করে,চাঁপার গাছে চাঁপা হয়ে ফুটি
ভোরের বেলায় মাগো ডালের পরে, কচি পাতায় করি লুটোপুটি,
তবে তুমি আমার কাছে হারো,
তখন কি মা চিনতে আমায় পারো”
সত্যি শিশুদের মনের কথা জানা দুঃসাধ্য ব্যাপার, আর শিশুমনের সেই গহীন কোনে ঢুকতেই রায়দিঘি বকুলতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিনব উদ্যোগ। ভাঙ্গা হাতে এক টুকরো চিরকুটে কেউ লিখেছিল 'বাবা-মা আমাকে ভালোবাসে না' আবার কেউ লিখেছে আমি নাচ শিখতে চাই আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ থাকায় পরিবারকে জানানো হয়নি। আর শিশুমনের সেই গহীন কথা জানতেই রায়দিঘির বকুলতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিনব উদ্যোগ।
{link}
স্কুলের উদ্যোগে চালু করা হয়েছিল মনের কথা ড্রপবক্স। আর সেই ড্রপ বক্সে শিশুদের মনের কথায় উঠে এলো বিষাদের সুর যা দেখে স্তম্ভিত রায়দিঘীর বকুলতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। জানা যায়, সম্প্রতি শিশুদের মনের কথা জানতে বকুলতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে স্কুলে মনের কথা নামের একটি ড্রপ বক্স করা হয়। যেখানে ছাত্র ছাত্রীদের নিজেদের মনের কথা জানানোর জন্য বলা হয় স্কুলের পক্ষ থেকে। ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের মনের কথা যা বাবা মা এমনকি কাউকে তারা জানায় নি সেই কথা লিখে ড্রপ বক্সে ফেলতে বলা হয়।
{link}
এর পরেই বকুলতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের মনের কথা লিখে ড্রপবক্সে ফেলেন। পরে ড্রপবক্স খুলে ছাত্র-ছাত্রীদের মনের কথা দেখতে গিয়ে হতভম্ব হয়ে যান শিক্ষকেরা। কোন কোন ছাত্র লিখেছে তাদের বাবা মা তাদের ভালোবাসেন না আবার কেউ কেউ লিখেছে নিজের ইচ্ছের কথা যা আর্থিক প্রতিকূলতার কারনে জানাতে পারেনি পরিবারের লোকজনকে। ছাত্র-ছাত্রীদের মনের কথা জানার পরেই স্কুলের শিক্ষকরা অভিভাবকদের সাথে কথা বলে ছাত্র-ছাত্রীদের কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করার কথা জানায়। পাশাপাশি আগামী দিনে যাতে ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যার কথা জানা যায় তার জন্য স্কুলের পক্ষ থেকে নিয়মিত চালু করা হবে মনের কথা ড্রপবক্স। অবশ্য স্কুলের এমন উদ্যোগে বেজায় খুশি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী থেকে অভিভাবক অভিভাবিকারা। এই উদ্যোগ বাস্তবিকভাবেই প্রশংসনীয়।
{ads}