সেলফি তুলতে কে না ভালোবাসে।কিন্তু এই সেলফিই ডেকে আনল বিপত্তি। দ্বিতীয় হুগলী সেতু থেকে গঙ্গাতে ঝাঁপ দেওয়ার সেলফি তুলতে গিয়ে গঙ্গা বক্ষে তলিয়ে গেল এক যুবক সোমবার সকালে।সুত্রে খবর পাঁচ জন যুবক বাইক নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন সোমবার সকালে হুগলী সেতুর ওপরে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সেলফি তোলা। সেলফি তুলে সেই সেলফি সোশ্যাল মিডিয়াতে দেবে।এরা পাঁচজনই তপশিয়ার বাসিন্দা।হুগলী সেতু থেকে গঙ্গাতে ঝাঁপ দেবার সময়ের ভিডিও বা ছবিও তুলবে। এই পরিকল্পনা নিয়ে তারা উপস্থিত হয়েছিল। তাদের মধ্যে প্রথম দুজন গঙ্গাতে ঝাঁপ দেয়। দুজন ঝাঁপ দেওয়ার পর একজনকে ভেসে উঠতে দেখা গেলেও অপরজনকে আর দেখতে পাওয়া যায় না। একজনকে তলিয়ে যেতে দেখে বাকি তিনজন ভয় পেয়ে যায়। তারা আর ঝাঁপ দিতে সাহস পায় না। যে যুবকটিকে তলিয়ে যায় তাকে বাঁচানোর জন্য ডুবুরিকে খবর দেওয়া হয়। দুজন যুবক একসাথে ঝাঁপ দিয়েছিলো কিন্তু ঝাঁপ দেওয়ার পর মুহূর্তে একজন ভেসে উঠলেও আর একজন কে তলিয়ে যেতে দেখা জায়।উদ্ধার কাজ এখন চলছে। সুত্রে খবর ওই পাঁচজনের পাঁচজনই ছিলেন ভালো সাঁতারু।
সত্যি বলতে গেলে সোশ্যাল মিডিয়াতেই এখন আমাদের যাবতীয় সবকিছু। ছোটছোট, খুঁটিনাটি জিনিস থেকে শুরু করে, জীবনের প্রত্যেকটি জিনিস আমরা সবার সামনে তুলে ধরতে ভালোবাসি। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়াতে নিজের পরিচিতি বাড়াতে কে না চায়, ঠিক এই একই নেশাতে ওই পাঁচজন যুবক হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে এত বড় এক ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেয়। দুঃখের বিষয় হল আজকের যুব সমাজ কাল্পনিক জগত ও বাস্তবকে এমনভাবে মিশিয়ে ফেলেছে যে পারিপার্শ্বিক মানুষজনদের কথা আর মাথায়ে নেই তাদের। আশেপাশে কি ঘটে চলেছে, তার থেকেও বেশি গ্রহণযোগ্য সোশ্যাল মিডিয়াতে কি হচ্ছে।কিন্তু অন্যদিকে আরেকটা প্রশ্ন উঠে আসছে সামনে, কি করে পুলিশের ঘেরাটোপ এড়িয়ে দ্বিতীয় হুগলি ব্রিজে উঠে এই দুঃসাহসিক কর্মকাণ্ড ঘটালো ওই পাঁচজন।পুলিশের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন একদিকে আবার অন্যদিকে কেউ কতোটা জ্ঞানশূন্য হলে এমন কাজ করতে পারে?তবে সত্যিই কি এই যুবকদের সেলফি তোলারই উদ্দেশ্য ছিল? নাকি এর পেছনেও রয়েছে অন্য কোন গোপন রহস্য।পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
