সোমবার রাতে হাওড়ার কাসুন্দিয়া ২ বাই লেনে শ্লীতলাহানীর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনাটিতে লেগে গিয়েছে রাজনীতির রঙ। কর্মস্থল থেকে টোটো ধরে বাড়ি ফিরছিলেন এক তরুণী। সেই তিন চাকার যানবাহনটিতেই তাঁর শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত ধরে ফেলে বেধড়প মারধর করেন। পরবর্তীতে চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ এসে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার আদালতের পক্ষ থেকে ধৃতের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ধৃতকে হাওড়া আদালতে পেশ করা হয়েছিল। আদালতে পেশ করা হলে ধৃত যুবক জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু, বিচারকের তরফে জামিনের আর্জি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে, ধৃতের ছ’দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত এই অভিযোগকারিণী একই পাড়ার বাসিন্দা। বহুদিনের চেনা পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও তিনি ওই তরুণীর সঙ্গে অভব্য আচরণ করেন। সোমবার রাত ৮ টা নাগাদ মন্দিরতলা থেকে টোটোয় চেপে বাড়ি ফিরছেন ওই তরুণী। তিনি এক বেসরকারি হাসপাতালের কর্মরত। সেই সময় টোটোয় তিনি ছাড়াও এক মহিলা ও এক পুরুষ যাত্রী ছিলেন। একইসঙ্গে উল্টোদিকের আসনে বসেছিলেন এক যুবক। দুই যাত্রী টোটো থেকে নেমে যাওয়ার পরেই ওই যুবক হাসপাতালের কর্মীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন বলে অভিযোগ। তরুণী প্রতিবাদ করে অভিযুক্ত কে চড় মারেন। সেই সময় তাকেও মারধর কার হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরবর্তীতে মহিলার চিৎকার-চেঁচেমেচি করলে স্থানীয় বাসিন্দারা জড়ো হন। সেই সময় অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করে নর্দমায় পড়ে যান। নর্দমায় ফেলে রেখেই অভিযুক্তকে বেধড়প মারধর করেন স্থানীয়রা। সেই সময় উপস্থিত এক মহিলা ভিডিও করছিলেন। সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ। গণপিটুনির হাত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ অভিযযুক্তকে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে অভিযুক্তকে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে শ্লীলতাহানির মামলা।
প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই রাজনীতির রঙও লেগে গিয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি স্থানীয় এলাকায় শাসকদলের প্রাক্তন পৌরমাতার পরিবারের সদস্য বলে জানতে পারা গিয়েছে। এই খবরটি প্রকাশ্যে আসার পরেই রাজ্যের বিরোধী দল শাসকদলের বিরুদ্ধে কড়া আক্রমণ করেছে। অপরদিকে, দোষীর উপযুক্ত শাস্তির দাবি করছেন স্থানীয়রা। সবমিলিয়ে এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকাজুড়ে।
