Logo

সময়ের সম্মুখে

শেফিল্ড টাইমস

ডিজিটাল

Date: 09/06/2026 E-Paper
Advertisement
Care and Cure 1

ঐতিহাসিক বর্ধমানের রাজবাড়ি, আনুমানিক ৩০০ বছর ধরে মা পূজিতা হন পটেশ্বরী রূপে

Loading... রাজ্য
ঐতিহাসিক বর্ধমানের রাজবাড়ি, আনুমানিক ৩০০ বছর ধরে মা পূজিতা হন পটেশ্বরী রূপে
#news #Burdwan #Historical Puja #Durga Puja #West Bengal #সংবাদ

নিজস্ব সংবাদদাতাঃ অনেক ইতিহাসের সাক্ষী প্রাচীন বর্ধমানের এই রাজবাড়ি। সময়ের বয়স বাড়ার সাথে সাথে সংস্কারের অভাবে ভেঙে গিয়েছে একাধিক অংশ, তবু এখনও ঐতিহ্য বর্তমান রয়েছে বর্ধমানের এই রাজবাড়ির। ইঁটের রঙ বদলে গিয়েছে । এখনও ঝরে পড়ছে চুন-সুড়কি। ভেঙে পড়া ইতিহাসের সাক্ষি হয়ে সুন্দর সব নকশা এখনও রাজ ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। গা ছমছম করা পরিবেশও মিলবে বইকি।

{link}
রাজবাড়ীতে রয়েছে বর্ধমান রাজবাড়ির লক্ষ্মী নারায়ণ জিউ মন্দির। জানা গিয়েছে,  শিব ও মা চন্ডীকার নিত্যপুজোর সঙ্গে এখানেই পূজিতা হন পটেশ্বরী দুর্গা। এখানে দেবী দুর্গা মূর্তিতে না, পূজিত হন পটে। সঙ্গে থাকে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশও। বর্ধমানের মহারাজ মহাতাব চাঁদ ৩০০ বছর আগে এই পুজো শুরু করেন। রাজবাড়ির কুলদেবী দেবী চণ্ডিকা। শোনা যায়, রাজার ইচ্ছে হয়েছিল রাজবাড়িতে দুর্গাপুজো করার। সে কথা কুলপুরোহিতকে জানানো হলে তিনি নিদান দেন মূর্তি পুজো করা যাবে না। পটে এঁকে পুজো করা যেতে পারে। সেই থেকেই শুরু হয়েছিল পটেশ্বরী দুর্গার পুজো। মহাতাব চাঁদের আমলে জাঁক জনক পূর্ণ ভাবে এই পুজো অনুষ্ঠিত হতো, বাহান্ন রকমের ভোগ প্রদান করা হতো দেবীকে, শারদোৎসবের একমাস আগেই কিনে আনা হত এক বস্তা সুপারি। তার পর একমাস ধরে চলত সুপারি বলি দেওয়ার অনুশীলন। হাত পাকলে তবেই দেবীর কাছে সুপারি বলিদান দেওয়ার অনুমতি পাওয়া যেত। বর্ধমান রাজবাড়ির পটেশ্বরীর আরাধনায় এটাই ছিল রীতি। 

{link}
কিন্তু ইতিহাসের নিয়মে অনেক কিছুরই বদল হয়। রাজবাড়িতে দেবীর আরাধনা হলেও সুপারি বলির প্রথা এখন বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। ইতিহাসের নিয়মে যেমন রাজ আমলেরও বিলুপ্তি ঘটেছে। পুজোর কয়েকদিন জলসাও হত একসময়। এখনও তা অতীত। কালের নিয়মে আরও কিছু সংযোজিতও হয়েছে এখানে। অবাঙালিদের হাত ধরে পটেশ্বরীর আরাধনায় ডান্ডিয়া নৃত্য এখন রাজবাড়ির পুজোর অন্যতম আকর্ষণ। গুজরাটি সম্প্রদায়ের মানুষজন বর্তমানে পটেশ্বরী পুজোয় খুঁজে নিয়েছেন নবরাত্রি উৎসবকে। বিয়োজন-সংযোজন ঘটলেও আগের মতোই রাজ পরিবার এখনও এই উৎসবের পৃষ্ঠপোষক। বর্তমান পুরোহিত অসিত ভট্টাচার্য, উত্তম মিশ্ররা জানান, এখন রাজ আমল না হলেও পটেশ্বরীর আরাধনায় জাঁকজমকে কোনও খামতি থাকে না। রাজবাড়ির পুরনো রীতিতেই এখানে পুজো হয়। নয়দিন ধরে চলে এই পুজো নবমীতে হয় কুমারী পুজো। এখন অষ্টমী এবং নবমীতে দেবীকে লুচি-হালুয়া ভোগ নিবেদন করা হয়। জাঁকজমক কিছুটা কমলেও এখনও ইতিহাসের সাক্ষি হয়ে রয়েছে এই পুজো।

সর্বশেষ আপডেট: