একেবারে যাকে বলে “ষোলো কলা পূর্ন”, একসময় বর্ধমান আদ্যপ্রান্ত মোড়া থাকত সিপিএমের লাল পতাকায়, কিন্তু আজ সারা বর্ধমান জুড়ে শুধুই গেরুয়া পদ্মের ছড়াছড়ি। জনসমুদ্রের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলেছে একটা দুধ সাদা চারচাকা গাড়ি, গাড়ির কাঁচের উপর চারধার থেকে উড়ে আসছে গেরুয়া গাঁদা ফুলের পাপড়ী, গাড়ির ভিতর থেকে জনগনের উদ্দেশ্যে হাত নাড়ছেন সর্বভারতীয় বিজেপির সভাপতি। গাড়িটি জেপি নাড্ডার কনভয়ের গাড়ি। জনগনের গলা ফাটানো “জে পি নাড্ডা স্বাগতম” চিৎকার ও গেরুয়া গাঁদার বৃষ্টির মধ্যে দিয়ে শনিবার এভাবেই রাজ্যে স্বাগত জানানো হল জে পি নাড্ডাকে।
প্রথমবারের রাজ্যে আবির্ভাব খুব একটা সুখকর হয়নি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির। কনভয়ের উপর এসে পরেছিল ইট। কিন্তু এইবারে কার্যত রাজার মত পুষ্পবৃষ্টির মধ্যে দিয়ে নিজের সভামঞ্চে পৌঁছলেন জেপি নাড্ডা। ক্লক টাওয়ার থেকে কার্জন গেট পর্যন্ত মিছিল করেন তিনি। আজকে কার্যত অমিত শাহের রোড শো-র মতোই জনসমুদ্র চোখে পড়ল জেপি নাড্ডার মিছিলেও।
প্রথমে অমিত শাহের ‘শাহী সভা’-এ একাধিক তৃনমূলের নেতার দল পরিবর্তন করে পদ্মফুলের শিবিরে যোগদান, তারপর বোলপুরের অমিত শাহের রোড় শো তে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি। আর তারপর আজকেও কার্যত জে পি নাড্ডার রোড শো তেও একই জনসমুদ্রের ছবির পুনরাবৃত্তি। পাঁচ বছর আগে রাজ্যে বিজেপির যে ছবি কল্পনারও অতীত ছিল, আজ তাই বর্তমান করে দেখিয়েছে রাজ্যের গেরুয়া শিবির। তবে কি পদ্মফুলের চাপে ক্রমশ শুকিয়ে যাবে ঘাসের উপর জোড়া ফুল? প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে। সবমিলিয়ে রাজ্যের এই দুই পুস্পশিবিরের ভোটের লড়াই এগিয়ে আসতে থাকা ভোটের সাথেই আরো জমাটি হয়ে উঠছে। দুই পক্ষেই একই সঙ্গে বেড়ে চলেছে হৃদকম্পন। শেষ পর্যন্ত রাজ্যপাটের দায়িত্ব কার হাতে তুলে দেয় বাংলার মানুষ তা শুধু সময়ের অপেক্ষা। কোন ফুলের উপরে শেষ পর্যন্ত ভরসা রাখবেন বাংলার মানুষ তা কিন্তু আগে থেকে অনুমান করা বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এক মুঠো বালিতে বালির উপস্থিতি কত কনা সেই কাজ করার মতোই কঠিন।

