জয় শ্রী রাম, ভগবানের নাম। সেই নামই যে একদিন রাজনৈতিক লড়াই এবং হিংসার কারন হয়ে উঠবে, মানুষ তাকে ব্যাবহার করবে রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে, তা কে ভেবেছিল? সেই ধ্বনি নিয়েই ধুন্ধুমার লড়াই দক্ষিন দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরে। ভোটের আগেও ছিল, এবার ভোটের পরেও। তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে মাথা ফাটল তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি সহ মোট তিনজনের। ঘটনার জেরে কয়েকজন বিজেপি কর্মীর বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে এলাকায় যায় পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত। কার্যত চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি ছড়িয়ে পড়ে ঘটনাস্থল জুড়ে।
{link}
উল্লেখ্য বিষয় জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেওয়া নিয়ে ভোটের আগেও একাধিকবার অশান্তি হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মুখ থুবড়ে পড়ার পর কিছু দিনের জন্য বন্ধ ছিল ওই ধ্বনি দেওয়া। শুরু হয়েছে ফের। যার জেরে তুমুল অশান্তি গঙ্গারামপুরের রাঘবপুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন একটি গাড়ির চাকা গর্তে পড়ে যায়। চাকা তুলতে এগিয়ে আসেন বিজেপি-তৃণমূল দুই দলের কর্মী-সমর্থকরাই। চাকা তোলার সময় আচমকাই একজন জয় শ্রীরাম ধ্বনি দেন। সেইখান থেকেই শুরু হয় অশান্তি। দুপক্ষে বাঁধে সংঘর্ষ। তার জেরে জখম হন তৃণমূলের ৬ নম্বর অঞ্চল সভাপতি কল্যাণ দাস। লাঠির ঘায়ে তাঁর মাথা ফেটে যায়। জখম হন সবুজ শিবিরের আরও দুই কর্মী। বিজেপির অভিযোগ, কল্যাণের লোকজন এলাকার বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে হামলা চালায়। রেয়াত করা হয়নি বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদেরও। এ ব্যাপারে বিজেপির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করে তৃণমূল।
{link}
তৃণমূলের জেলা সভাপতি গৌতম দাস বলেন, চার হেভিওয়েট গ্রেফতার হওয়ার পরেই জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে উত্তপ্ত করার চেষ্টা হচ্ছিল এলাকা। আমাদের অঞ্চল সভাপতি সহ দলের তিনজন জখম হয়েছেন। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। য্র ফলে একথা এখনও স্পষ্ট নয় যে আসল দোষ কার। প্রশ্নটা অন্য যায়গায়, ভগবানের নাম তাকে রাজনৈতিক হিংসার সাথে জড়িত করে কি লাভ? রক্তপাত ও হিংসার কারন হয়ে উঠুক এই স্লোগান তা হয়ত সত্যিকারের রাম ভক্তরা কখনই চায়নি।
