ভাঙ্গা গড়ার খেলার মাঝে সংকটে গ্রামবাসী আর সরকারের অর্থনীতি। বার বার মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন যে গ্রামীণ রাস্তা গুলোর ওপরে বেশি ভারি গাড়ি যাতে না চলে কিন্তু তা সত্ত্বেও ঝাড়গ্রামের সাকারাইল গ্রামীণ এলাকাতে চলছে বালি ভর্তি লরি। সাধারণ স্কুল পড়ুয়া থেকে নিত্যযাত্রী প্রতিনিয়ত ভুগছেন নিরাপত্তাহীনতায়। রাস্তার উপর যে কোনও সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। ঝাড়গ্রাম জেলার সাকরাইল ব্লকের রগরা অঞ্চলের বাসিন্দারা এই নিরাপত্তাহীনতার স্বীকার। রাস্তার ওপরে ভারী গাড়ি চলায় বিপদ বাড়ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনার পরিমাণ। ঝাড়গ্রামের প্রশাসনিক সভাতে এসে মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং বলেছিলেন যে রাস্তার ওপর দিয়ে ভারি গাড়ি চালানো যাবে না তা সত্ত্বেও গ্রামীণ রাস্তার উপর প্রতিদিন চলছে শয়ে শয়ে ওভারলোড বালির গাড়ি। সুবর্ণরেখা নদী থেকে তোলা বালি বড় বড় লরিতে বোঝাই করে রগড়া অঞ্চলের সুবর্ণরেখা নদীর পাড় থেকে বকুলতলা পর্যন্ত নিতান্ত গ্রামীণ কাঁচা রাস্তার উপর চলাচলের জন্য অসুবিধায় পড়ছেন এলাকার মানুষ। তারা ইতিমধ্যে প্রশাসনকে জানিয়েছে তা সত্ত্বেও কোন কাজ হয়নি। ভারি গাড়ি চলাচলের ফলে নিয়মিত ফেটে যাচ্ছে পানীয় জল সরবরাহকারী পাইপ লাইন। ফলস্বরূপ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাঁকরাইল ব্লকের রগড়া অঞ্চলের ঘোড়াঘাটি সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ। প্রতিবাদ করতে গেলেই গাড়ির নিচে পিশে মারার মতোন হুমকির সম্মুখীন হতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের।
এবিষয়ে ইতিমধ্যে এলাকার মানুষ এই বিষয়ে নানা পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।গ্রামবাসীরা স্থানীয় ব্লক প্রশাসন থেকে শুরু করে ঝাড়গ্ৰাম জেলা প্রশাসন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু নেওয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ, তাই দাবি জানাতে এলাকার মানুষজন বুধবার সাঁকরাইল ব্লকের ভূমি দফতরের অফিসের দরবারগ্রস্ত হয়। গ্রামবাসীদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত এদিন বি এল আর ও সাহেব গ্রামবাসীদের প্রতিশ্রুতি দিতে বাধ্য হন। রগড়া অঞ্চলের সুবর্ণরেখা নদীর পাড় থেকে বকুলতলা পর্যন্ত গ্রামীণ রাস্তার উপর আর চলবে না বালি গাড়ি দেওয়া হয় এই প্রতিশ্রুতি। বি এল আর ও সাহেবের প্রতিশ্রুতি মতো গ্রামবাসীরা এদিন বিক্ষোভ থেকে সরে এলেও পুনরায় রাস্তার উপর বালি গাড়ি চলাচল করলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামবাসী। মানুষের জীবনের কথা ভেবে গ্রামীণ রাস্তার উপর বালি গাড়ি চলাচল বন্ধ করুক প্রশাসন দাবি এলাকা বাশিদের।
এই গ্রামীণ রাস্তা গুলো গ্রামের লোকেদের যাতায়াতের জন্য বানানো হয়েছে। পণ্যবাহী গাড়ি গুলোর জন্য রাজ্য সড়ক রয়েছে তা সত্তেও এক শ্রেণীর গাড়ির চালক বার বার নিয়মভঙ্গ করছে। মানুষের জীবনের কথা ভেবে গ্রামীণ রাস্তার উপর বালির গাড়ি চলাচল বন্ধ করুক প্রশাসন এটাই দাবি এলাকাবাসীদের। মুখ্যমন্ত্রী যেখানে নিজে বার বার বলছেন, সে ক্ষেত্রে পরের দিনই ঝাড়গ্রামের রাস্তার ওপর দিয়ে চলছে ভারি বালির গাড়ি, কেন অমান্য করা হচ্ছে ওনার কথা? কেন বুড়ো আঙ্গুল দেখানো হচ্ছে বার বার মুখ্যমন্ত্রীকে?
