শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: কর্মসংস্থান হারাচ্ছে না। বহাল থাকছে চাকরি। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের রায় ঘোষণা হল বুধবার। আর তাতেই বড়সড় স্বস্তি পেলেন এই মামলার সঙ্গে জড়িত থাকা ৩২০০০ শিক্ষক ও তাদের পরিবার। রায় ঘোষণা হওয়ার পরেই আবেগের বন্যা চোখে পড়ল হাইকোর্ট চত্বরে। কেউ মাতলেন উল্লাসে আবার কারুর চোখে জল।
{link}
একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরি বহাল থাকার রায় ঘোষণা করেছে। ফলে, স্বস্তি পেয়েছেন নিয়োগ হওয়া 32000 শিক্ষক-শিক্ষিকারা। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে এই ৩২০০০ শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করার ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে, রীতিমতো উদ্বেগের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন শিক্ষক ও তাদের পরিবারগুলি। সেই কারণে এই বিপুল সংখ্যার শিক্ষকদের পাশাপাশি বুধবার সকাল থেকে গোটা রাজ্যের নজর ছিল এই মামলার উপর। সকাল থেকেই আদালত চত্বরে চোখে পড়ে শিক্ষকদের ভিড়। চোখেমুখে উৎকন্ঠা নিয়েই তাঁরা অপেক্ষা করছিলেন এই রায়ের জন্য। দীর্ঘ দুই বছর ধরে কঠিন লড়াই করেছেন তাঁরা। অবশেষে এই লড়াইয়ের ফল মিলল বুধবার। অনেকেই এদিন আবেগতাড়িত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
{link}
অপরদিকে, শিক্ষকদের একাংশকে ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গিয়েছে। তাঁরা আগের রায় নিয়ে ক্ষোভ উগরে দাবি করেছেন, সিঙ্গল বেঞ্চের রায় ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ ছিল। আজকের ঘোষিত রায় তার প্রমাণ। সত্যের জয় হল। উল্লেখ্য, ডিভিশন বেঞ্চের রায় ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জেলাতেও বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের ছবি ধরা পড়েছে। বেশ কিছু জায়গায় আবির খেলা হয়েছে। এমনকি কোথাও কোথাও মিষ্টিও বিতরণ করেছেন শিক্ষকরা।
{link}
২০২৩ সালে হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গল বেঞ্চ ৩২০০০ প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিল করার রায় দিয়েছিল। সেই সময় থেকেই শুরু হয়েছিল এই শিক্ষদের লড়াই। নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন তাঁরা। রাত-দিন, নাওয়া-খাওয়া ভুলে চলেছে আন্দোলন। অবশেষে বুধবার একমুখ হাসি নিয়ে লড়াইয়ের সুফল সহ ঘরে ফিরছেন তাঁরা। শিক্ষকদের একটি বড় অংশের মতে, এতদিন তাদের নিজেদের আত্মীয় পরিজনদের পাশাপাশি রাস্তাঘাটেও প্রচুর অপমান সহ্য করতে হয়েছে। সমাজের কাছে কার্যত উপহাসের পাত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁরা। অবশেষে হাইকোর্টের রায়ে মিলল স্বস্তি। এটাই সমস্ত অপমানের যোগ্য জবাব বলে মনে করছেন তাঁরা।
{ads}