সুদেষ্ণা মন্ডল, দক্ষিন ২৪ পরগনা: তৃণমূলের বিধায়কের দাদাগিরি! বিধায়কের ঘনিষ্ঠ কে আটক করে উস্থি থানার পুলিশ। এরপর বিধায়কের ঘনিষ্ঠ কে আটক করায় থানায় গিয়ে দাদাগিরি দেখাতে শুরু করেন মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক গিয়াস উদ্দিন মোল্লা। থানার ভিতরে ঢুকে বিধায়ক পুলিশকে‘২ টাকার চাকর, ছোটোলোক’ বলে বসেন। শুধু এখানেই শান্ত হননি বিধায়ক, ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও মিতুন দে-কে বেনজির শাসানি মগরহাট পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক গিয়াসউদ্দিন মোল্লার। একটি খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে বিধায়ক ঘনিষ্ঠকে উস্তি থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। খবর পেয়েই কয়েকজন অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় ঢুকে পড়েন বিধায়ক। তাঁর ঘনিষ্ঠ ওই ব্যক্তিকে কেন পুলিশ থানায় নিয়ে এসেছে, তা নিয়েই পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বিধায়কের তর্কাতর্কি শুরু হয়ে যায়।
{link}
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার একটি খুনের ঘটনায় বিধায়ক ঘনিষ্ঠ জয়ন্ত চৌধুরী নামে এক ব্যক্তিকে উস্তি থানায় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়েই কয়েকজন অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে থানায় ঢুকে পড়েন মগরাহাট পশ্চিম কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক গিয়াসউদ্দিন মোল্লা। সেই সময় থানায় উপস্থিত ছিলেন ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও মিতুন দে।সূত্রের খবর, বিধায়কের মুখ খেকে এমন হুমকি পেয়েই থানায় দাঁড়িয়ে ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও মিতুন দে যোগাযোগ করেন ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার এসপি ধৃতিমান সরকারের সঙ্গে। এসডিপি মিথুন কুমার দে বিধায়কের হুমকিতে চুপ থাকেন তিনিও বলেন এলাকায় দুষ্কৃতীদের আপনি সমর্থন করছেন। পুলিশকে তার নিজের কাজ করতে দিন, অভিযুক্তদের আপনি আড়াল করবেন না। এর এসপি-র পরামর্শেই এরপর থানা থেকে চলে যান এসডিপিও। তবে সূত্রের খবর, একজন বিধায়কের মুখ থেকে এমন মন্তব্য শুনে যারপরনাই ক্ষুব্ধ জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তৃণমূলের শীর্ষস্তরে জানানো হতে পারে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।এসডিপিও-কেই নজিরবিহীনভাবে আঙুল উঁচিয়ে শাসানি দিতে শুরু করেন তৃণমূল বিধায়ক। থানার সিঁড়িতে বসে পুলিশকে ‘২ টাকার চাকর, ছোটোলোক’ বলেও তিরষ্কার করতে শোনা যায় বিধায়ককে। সম্প্রতি একটি ভিডিওয়-ক তৃণমূলের বিধায়ক গিয়াসউদ্দিন মোল্লাকে পুলিশকে এভাবে তিরস্কার করতে দেখা গিয়েছে। যদিও ওই ভিডিও-টির সত্যতা যাচাই করেনি আমরা।
বিধায়কের এহানো মন্তব্যে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। এই বিষয়ে ডায়মন্ড হারবার সংগঠনিক জেলা বিজেপি নেতা সুফল খাটুয়া জানান, সম্প্রতি সময়ে দেখা গিয়েছে পুলিশ রাজ্য সরকারের দলদাস হয়ে কাজ করছিল ।কিন্তু পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে ভোটের আগে পুলিশ সক্রিয় হতেই বিধায়ক ও রাজনৈতিক নেতারা পুলিশ প্রশাসনের উপর বেজায় ক্ষিপ্ত হয়ে গিয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের ওপর মানুষের আস্তা রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের উপর বিধায়কের দাদাগিরির আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। পুলিশ প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে নিজেদের কাজ করার অধিকার রয়েছে। এ বিষয়ে মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের যুব সভাপতি ইমরান হোসেন মোল্লা বলেন, আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আমাদের যুব সমাজের কান্ডারী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের বিধায়ক ও কর্মীদের সুস্পষ্টভাবে নির্দেশ ছিল যে পুলিশকে তার নিজের কাজ করতে দিতে হবে। আমাদের দলের বিধায়ক মাননীয় গিয়াস উদ্দিন মোল্লার এই আচরণের জন্য আমি পুলিশ প্রশাসনের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। এহেন মন্তব্য করে যে বেশ বিপাকে পড়েছেন বিধায়ক তা কিন্তু স্পষ্ট। এখন এই ঘটনার ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয় তাই দেখার বিষয়।
