খরচ করা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা, কিন্তু খরচ করে সবই জলে যাচ্ছে। বুধবার, সাংবাদিক সম্মেলনে এমন অভিযোগই করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পাশাপাশি তিনি বলেন দিঘার সৌন্দর্যায়নের ভিত্তিও ভুল ছিল। যার ফলে আমফানের পর যশের ঝাপ্টাতেও ধুলিস্যাৎ হয়েছে সাজানো গোছানো শহরগুলি, হয়েছে প্রবল ক্ষয়ক্ষতি।
{link}
উল্লেখ্য বিষয় ঘূর্ণিঝড় যশের আঘাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে রাজ্যের। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখতে এদিন নবান্ন সভাঘরে পদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই যশের কারণে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের কারণে বাঁধ ভেসে যাওয়ায় ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। যশের কারণে নিদারুণ ক্ষতি হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের। এর পাশাপাশি বিপুল ক্ষতি হয়েছে সুন্দরবনের এলাকাতেও। বিভিন্ন নদীর বাঁধ ভেঙে ভেসে গিয়েছে ঘর-বাড়ি-গবাদি পশু। কোথাও হাঁটু সমান জল, কোথাওবা কোমর সমান। অথচ ফি বছর বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের হাত থেকে সুন্দরবনবাসীকে বাঁচাতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে তৈরি হয়েছিল বিভিন্ন নদী বাঁধ। সেই বাঁধই ভেসে গিয়েছে। তাতেই ক্ষু্ব্ধ মুখ্যমন্ত্রী।
একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দিঘাও। সমুদ্র সৈকত সৌন্দর্যায়নের যাবতীয় সামগ্রী গিয়েছে সমুদ্রের পেটে। এদিক সেদিক ছড়িয়ে রয়েছে অতিকায় বোল্ডার। পর্যটকদের বসার জন্য তৈরি রেলিংও গিয়েছে ভেসে। দিঘার পর্যটন কেন্দ্র কার্যত চোখে দেখে চেনা যাচ্ছে না। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীও গিয়ে এলাকা প্রদর্শন করে এসেছেন। এদিন সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দিঘার সৌন্দর্যায়নের ভিত্তিও ভুল ছিল।
{link}
এর পিছনে কারন হিসেবে বলা হচ্ছে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বেশ কিছুদিন সেচমন্ত্রী ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে তাঁকে বনমন্ত্রী করে দেওয়া হয়। বিধানসভা ভোটের আগে তিনি চলে যান বিজেপিতে। বাঁধ ভেসে যাওয়ার তদন্ত হওয়া উচিত বলে রাজীবের দফতরের দিকেই মুখ্যমন্ত্রী আঙুল তুলেছেন। একইভাবে দিঘা শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান ছিলেন শুভেন্দুর বাবা শিশির। দিঘা সৌন্দর্যায়নের ভিত্তিও ভুল ছিল বলে কি তাঁকেই নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী? প্রশ্ন সেখানেই। কিন্তু ক্ষতি যে হয়েছে সেই কথা স্পষ্ট। এখন ক্ষতি মেরামতের লক্ষেই কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে অগ্রসর রাজ্য সরকার।
.jpeg)
