একবার ইতিমধ্যেই পুরোনোদের উপর অতিরিক্ত আস্থা রেখে মুখ পুড়েছে। তাই এবার সবদিক ভেবেই সাবধানী পদক্ষেপ তৃণমূলে। ফের বিট্রে করতে পারেন পুরানোরা, তাই তৃণমূল সুপ্রিমোর ভরসা এবার এসে পড়ল আনকোরাদের ওপর। তৃণমূলের একটি সূত্র এবং তার পাশাপাশি রাজ্যনৈতিক বিশেষজ্ঞের এক অংশের দাবি এমনই। তাদের মতে, সেই কারণে তৃণমূলের যুব সংগঠন কিংবা শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্বে নিয়ে আসা হয়েছে সায়নী কিংবা সায়ন্তিকার মতো যুব মুখেদের। তার পাশাপাশি এহেন সেলিব্রিটিদের এতো বড়ো রাজনৈতিক পদের দায়িত্ব দেওয়া উচিত হল কি না সেই নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
{link}
একসময় নিজে হাতে করে যাঁদের রাজনীতি শিখিয়েছেন, সময়ের পর সব ভুলে ছুরি মেরেছেন তাঁরাই। বিশ্বাসঘাতকদের আঘাতে জর্জরিত হয়ে উঠেছে দল। দলের ভালোর কথা ভেবে যাঁদের বসিয়েছিলেন উঁচু উঁচু পদে, তাঁরাই বিরোধী দলে গিয়ে ছোটাচ্ছেন কুকথার ফুলঝুরি, রটাচ্ছেন দল ও নেত্রীর নামে বদনাম। তাই ক্রমেই প্রবীণদের ওপর থেকে ভরসা কমে যাচ্ছে তৃণমূল নেত্রীর। সেই কারণেই এবার আনকোরা মুখেদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেমন এক্ষেত্রে নাম করা যেতে পারে জটু লাহিড়ী ও শীতল সর্দারের মতো নেতাদের। যারা টিকিট না পেয়েই সব ভুলে গিয়ে যোগ দিয়ছিলেন বিপক্ষের শিবিরে।
এই বিপত্তি বাঁধে ২০২১এর নির্বাচনে। জটু লাহিড়ী, রাজীব ব্যানার্জির মতো মমতার বহু আন্দোলনের সাথীরা একে একে শিবির বদলাতে শুরু করেন। বিশ্বস্ত অনুচর ভেবে যাঁদের গুরুত্বপূর্ণ নানা পদে বসানো হয়েছিল, তাঁরাই রাতারাতি দল বদলে শত্রু শিবিরে যোগ দিয়ে দলের সব ফাঁস করতে উদ্যত হয়ে ওঠেন। পাল্টে যায় চিত্র।
{link}
তার পরেও বিপুল জনাদেশ নিয়ে একুশের ভোটের পর মমতা ফেরেন মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে। এর পরেই দলের খোলনলচে বদলাতে উদ্যোগী হন তিনি। হাতে গোণা কয়েকজন বিশ্বস্ত অনুচর বাদ দিয়ে দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে আসেন একঝাঁক তাজা রক্ত। তার জেরেই যুব তৃণমূলের সভাপতির পদে বসানো হয়েছে সায়নী ঘোষকে। আর ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের সম্পাদকের পদে নিয়ে আসা হয়েছে রাজনীতির জগতে একেবারে ফ্রেশ সায়ন্তিকাকে। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ চক্রবর্তীকেও। কিন্তু সকলেই টলি পাড়ার বাসিন্দা। সিনেমা জগতের এই তারকারা এখন রাজনৈতিক জগতের এই দায়িত্ব কতোটা সামলে উঠতে পারেন তাই লক্ষ্যনীয় বিষয়।
