শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রায় বিকেল পর্যন্ত টানটান উত্তেজনাময় ছিল স্লটলেকের একটি অফিস ও সেই অফিসের মালিকের বাড়ি। বিষয়টা কি? আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশি। আর এই তল্লাশিতে রাজ্য দেখল বেনজির ছবি। তল্লাশির মাঝেই প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে গেলেন সিপি মনোজ ভর্মা। আর তার কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তড়িঘড়ি প্রতীকের বাড়িতে ঢুকলেন তিনি। মিনিট পনেরো পর বেরিয়ে আসেন। হাতে একটা সবুজ ফাইল। কী রয়েছে তাতে, নিজেই বলেন, কেন তল্লাশি তাও বলেন। এখানেই প্রশ্ন, কি আছে ওই ফাইলে, যা ইডির হাত থেকে কেড়ে নিতে বাধ্য হন মুখ্যমন্ত্রী। আর একটা কেন্দ্রীয় সংস্থার হাত থেকে কি মুখ্যমন্ত্রীর কেড়ে নেওয়া আদৌ আইন সম্মত? আইন বিশেষজ্ঞরা এর উত্তরে বলেন - 'না'।
{link}
অনেকেই মনে করছেন যে ওই ফাইলে এমন কিছু তথ্য ছিল যা ইডির হাতে পড়লে বিপদে পড়তে পারেন তৃণমূল কংগ্রেস ও তাদের বহু নেতা মন্ত্রী। যদিও মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, সেই ফাইলে ছিল তাদের দলের কিছু জরুরি কাগজপত্র। এখানেও প্রশ্ন উঠেছে আইপ্যাক অফিস তো তৃণমূলের দলীয় অফিস নয়, তাহলে কেন মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ওটা তৃণমূলের পার্টিঅফিস? সেই প্রশ্নেরও কোনো উপায় নেই। মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পর থেকেই, তাঁর হাতের ওই ফাইলের ভিতরে কী থাকতে পারে— সেই প্রশ্নেই ঘনাচ্ছে জল্পনা। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য সাংবাদিকদের সামনে বলেন, ওই ফাইলে তৃণমূলের গোপন নির্বাচনী নথি আছে। তাঁর অভিযোগ দলের হার্ড ডিস্ক, প্রার্থীতালিকা, দলের কৌশল, পরিকল্পনা-- এসবই নিতে এসেছিল ইডি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমার দলের সব হার্ডডিস্ক, প্রার্থীতালিকা, দলের কৌশল, দলের পরিকল্পনা নিতে ইডি এসেছে। এটা কি ইডির দায়িত্ব? এটা কি অমিত শাহের দায়িত্ব? সবথেকে কদর্য (কেন্দ্রীয়) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, দুষ্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যিনি দেশকে রক্ষা করতে পারেন না। উনি আমার দলের সব নথি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন? আমি যদি বিজেপি পার্টি অফিসে অভিযান চালাই, সেটার ফল কী হবে?' এর পরে অবশ্য দু'পক্ষই আদালতে অভিযোগ জানান। কিন্তু কোনোভাবেই 'ফাইল রহস্য' পরিষ্কার হলো না।
{ads}