header banner

পরকীয়া সম্পর্কের জের, প্রেমিকের ভিডিও কলের সামনে আত্মঘাতী প্রেমিকা, গ্রেফতার অভিযুক্ত

article banner

নিজস্ব সংবাদদাতা, পূর্ব মেদিনীপুরঃ পরকীয়া সম্পর্কের জের, মোবাইলে ভিডিও কল করে প্রেমিকের সামনে আত্মঘাতী বিবাহিত প্রেমিকা। অবশেষে পালিয়ে বেড়ানোর পর পুলিশের জালে ধরা পড়ল অভিযুক্ত প্রেমিক। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর থানার গুড়গ্রাম এলাকায়৷ পুলিশ সূত্রে খবর অভিযুক্ত প্রেমিকের নাম অনিমেষ গুছাইত। তিনি ভগবানপুর থানার অন্তর্গত গুড়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা। শুক্রবার অভিযুক্তকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক তার জামিন নাকচ করে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে ভগবানপুর থানার পুলিশ। যদিও পরকীয়া সম্পর্কের কথা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে দুই পরিবারের তরফেই।

{link} 

স্থানীয় সূত্রে খবর, পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানার গোপালপুর গ্রামের ঝন্টু পাত্র গত আট বছর আগে দেখাশুনা করে পলতাবেড়িয়া গ্রামের সোমা বেরাকে বিবাহ করে। কর্মসূত্রে ভগবানপুর গুড়গ্রাম একটি সোনার দোকান করেন ঝন্টু। সেখানেই একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন তারা।  সেই দোকানেই যাওয়া আসা ছিল অনিমেষ গুছাইতের। সেখানেই বধু সোমার সঙ্গে আলাপ হয় তার। তারপরে উভয়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। বহুদিন ধরে দুজনেই যেখানে সেখানে ঘুরতে যেতেন। তারপরে দুই পরিবারের মধ্যে শুরু হয় অশান্তি। সালিশি সভাও বাসে। তারপরেও পরকীয়া সম্পর্কে ছেদ পড়েনি। কিন্তু দুজনের মধ্যে শুরু হয় অশান্তি। এরপর গত ১২ ই জুলাই প্রেমিক অনিমেষ গুচ্ছাইতকে ভিডিও কল করেন প্রেমিকা। হোয়াটসঅ্যাপের ভিডিও কলের সামনে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় বধু সোমা পাএ (২৮)। ঘটনার পর থেকে বেপাত্তা হয়ে যায় প্রেমিক অনিমেষ গুছাইত। ভগবানপুর থানার পুলিশ গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। পরে মৃত বধুর স্বামী ঝন্টু পাত্র ভগবানপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 

{link}
অনিমেষ ও সোমার পরকীয়া সম্পর্ক দুই পরিবার জানতো। এই কারণে দুই পরিবারই প্রচুর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিল। সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য উভয়ের ঘনিষ্ঠরা চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু দু'জনই সেই সম্পর্ক থেকে বেড়িয়ে আসতে পারছিলেন না। মৃত সোমা পাএের বাবা বিশ্বনাথ বেরার দাবি "তার মেয়ে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল। তারপর থেকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে অনিমেষ। শুধু তাই নয় আপত্তিকর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। তারপরেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে তার মেয়ে। আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়"। গ্রেফতার অনিমেষ গুছাইতের পরিবারের সদস্যদের দাবি "অনিমেষ এই অবৈধ সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছিল। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই বধু সোমা পাএ। সেই সম্পর্ক বজাই রাখতে চেয়েছিল।  আত্মহত্যা করার মুহূর্তেও সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখবে কিনা তা জানতে চেয়েছিল ওই বধু। অনিমেষ সম্পর্ক রাখবে না জানিয়ে দিলে সোমা আত্মহত্যা করবে বলে জানিয়ে দেয়। অনিমেষ বিষয়টি দাসপুরে সোমার মামাকে ফোন করে জানায়। এরপর তার স্বামীকে ফোন করে তার মামা বিষয়টি জানালে, তার স্বামী অন্য একটি রুম থেকে এসে স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান"। ভগবানপুর থানার ওসি নাড়ুগোপাল বিশ্বাস বলেন " অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে ", এখন তদন্তে নতুন কোন নথি উঠে আসে কি না, তাও দেখার বিষয়। আদৌ সোমার শ্বশুরবাড়ি থেকে কোন চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, সেই বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। 
{ads}

news suicide extramarital affair love East Midnapur West Bengal সংবাদ

Last Updated :