নিজস্ব সংবাদদাতা, নদীয়া: মিজোরাম পাথর খাদান ধ্বসে মৃত্যু হলো তেহট্টের তিন জন যুবকের। মৃতদের নাম বুদ্ধদেব মণ্ডল (২৪), মিন্টু মণ্ডল (২২) ও রাকেশ বিশ্বাস (২০)। মৃত তিনজন তেহট্টের কালিতলা পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা এ বি সি কন্সট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি সংস্থায় কাজ করতো। তাঁদের মৃত্যুর সংবাদ শুনে বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয় স্বজন থেকে প্রতিবেশীরা। অকাল প্রয়ানে শোকের আবহ নেমে এসেছে পরিবারে, কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছেন সকলেই।
{link}
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এমাসের ৮ তারিখে তাঁরা ঠিকাদার সংস্থার অধীনে কাজ করতে মিজোরাম যায়। ওই ঠিকাদার সংস্থা মিজোরামে জাতীয় সড়ক নির্মাণ করছিল। সেই রাস্তা নির্মাণের সময় পাথর খাদান থেকে পাথর আনার কাজ করছিল ওই ১৩ জন। ওই পাথর খাদানের মালিক ওই ঠিকাদারি সংস্থা। সোমবার সন্ধ্যা নাগাদ ওই পাথর খাদানে কাজ করার সময় বেশ কয়েকটি বড় পাথরের চাই গড়িয়ে নীচে পড়ে। সেই পাথরের চাঁই-এর তলায় চাপা পড়ে যায় ওই ১৩ জন। এক শ্রমিকের কথায় পাথর চাপা পড়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর উদ্ধার কাজ শুরু হয়। তারপর এখনো পর্যন্ত আটজনের দেহ ওই খাদান থেকে উদ্ধার হয়েছে। প্রথমে জানা গিয়েছিল যে মৃত সকলের বাড়ি বিহারে। পরে জানা যায় আটজনের মধ্যে পাঁচ জনের বাড়ি বাংলায়। তারমধ্যে তেহট্টের তিনজন। একজন চাপড়া ও একজন উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা। মঙ্গলবার বেলা দেড়টা নাগাদ ঠিকাদার সংস্থা থেকে প্রতেকের বাড়িতে ফোন করে এই খবর জানানো হয়।
{link}
মিজোরামের ধ্বসের কথা শুনে এদিন সকাল থেকেই ওই তিনজনের বাড়িতে আতঙ্ক শুরু হয়। সকাল থেকে ওই এলাকায় আস্তে আস্তে মানুষ জমতে শুরু করে। বাড়িতে চলে আসে আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব। এই ভাবে বাড়িতে লোকজন এলেও তখনো বাড়ির লোকজন জানে না যে ওই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে খাদান ধ্বসে। এই ভাবে মানুষজন বাড়তে থাকার সময় সংবাদ মাধ্যমে খবর দেখে তাঁরা জানতে পারে যে ওই ঘটনায় বাংলার পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর পরিবারের লোকজন আরও আতঙ্কিত হয়ে পরে। এরপর দেড়টা নাগাদ ঠিকাদার সংস্থা ফোন করে মৃত্যু সংবাদ দেয়। ওই ঠিকাদারি সংস্থাতে কাজ করা স্থানীয় যুবক অমিত মন্ডলকে সংস্থার পক্ষ থেকে দুপুর নাগাদ ফোন করে জানানো হয়। ঘটনায় শোকের আবহ সারা গ্রাম জুড়ে। দ্রুত দেহ পেতে চাইছেন পরিজনেরা। প্রশাসনের তরফ থেকেও চেষ্টা করা হচ্ছে দ্রুত দেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
