শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: বেশ কয়েক বছর হলো শারীরিক কারণে রাজনীতির জগৎ থেকে মুকুল রায় দূরে ছিলেন। খুবই অসুস্থ ছিলেন। এবার দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান। প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। রবিবার রাত দেড়টা নাগাদ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। গত কয়েক বছর ধরে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা এবং স্নায়বিক রোগে ভুগছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই বাইপাসের ধারের ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন মুকুল বাবু। চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও শেষরক্ষা হয়নি। তাঁর প্রয়াণের সংবাদে শোকে ভেঙে পড়েছেন তাঁর একমাত্র পুত্র শুভ্রাংশু রায়। বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, "প্রচুর লড়াই করেছিলেন বাবা। কিন্তু শেষ যুদ্ধটা আর জিতে উঠতে পারলেন না। বড্ড কষ্ট পাচ্ছিলেন। আমার বাবা আমার মায়ের কাছে চলে গেলেন।" মুকুল রায়ের প্রয়াণ পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ময়দানে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করল। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং রাজ্য রাজনীতির সূক্ষ্ম কৌশলী বা ‘চাণক্য’। ভারতের রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন মুকুল রায়।
{link}
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন সময় থেকে তিনি পার্টিতে আসেন। তৃণমূলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর-ই দলের সেকেন্ড ইন কমান্ডের দায়িত্বে ছিলেন মুকুল রায়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। দেশের প্রাক্তন রেলমন্ত্রীও ছিলেন মুকুল রায়। সামলেছেন রেল মন্ত্রকের দায়িত্বও। কিন্তু নারদা কেলেঙ্কারি উত্তরপর্বে তিনি তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপিতে যোগদান করেন মুকুল রায়। তবে সেই মেয়াদ ছিল কিছুদিনের জন্য।
দলবদলের পরে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে গিয়ে গত ২০২১ সালে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন মুকুল। জিতে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু জেতার কয়েক মাসের মধ্যে আবার তৃণমূলে ফিরে আসেন মুকুল রায়। কিন্তু বিধায়কপদ থেকে ইস্তফা দেননি। ফলে তৃণমূলে যোগ দিলেও মুকুল খাতায়-কলমে 'বিজেপি বিধায়ক' হয়েই থেকে গিয়েছিলেন। তাঁকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির (পিএসি) চেয়ারম্যানও করা হয়েছিল। শেষ কয়েক বছর ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছুটা দূরেই ছিলেন তিনি। বর্ষীয়ান রাজনীতিক মুকুল রায়ের মৃত্যুতে পশ্চিমবঙ্গ ও জাতীয় রাজনীতিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
{ads}