শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: রবিবার মধ্যরাতে প্রয়াত হয়েছেন আধুনিক বাংলারাজনীতির 'চানক্য' মুকুল রায়। একথা ঠিক এই মুহূর্তে তিনি যে কোন দলের সঙ্গে যুক্ত তা বলতে গেলে অনেকটাই ভাবতে হবে। তবে তিনি সুতীক্ষ্ণ এক রাজনৈতিক তাতে কোনো সন্দেহ নেই। একসময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড বলেই পরিচিত ছিলেন তিনি। তৃণমূল প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই দলে ছিলেন মুকুল রায়। নেপথ্যে থেকে নীতি নির্ধারণ করতেন। রাজনৈতিক সমীকরণ বোঝা ও সাজানোয় তাঁর দক্ষতা সদা আলোচনায় থেকেছে। একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম বিশ্বস্ত সৈনিক ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর, তৃণমূল তৈরির দু'দশকের মাথায় দল ছাড়েন। জোড়াফুল শিবির ছাড়ার ঘোষণা করেন । এর মাসখানেকের মাথায়, সেবছরের ৩ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন মুকুল রায়। গেরুয়া শিবিরেও প্রথম থেকে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছেন তিনি। নেপথ্যে থেকে কাজ করেন ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে।
{link}
বার বার দল বদল করার কারণে নাগরিক মহল মুকুল রায়ের প্রতি কিছুটা ক্ষুব্ধ। কিন্তু তবুও মুকুল রায় নিজের আসনেই প্রতিষ্ঠিত। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি তাঁকে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে প্রার্থী করে। তৃণমূল প্রার্থী কৌশানী মুখোপাধ্য়ায়কে ৩৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে বিধায়ক হন মুকুল রায়। তবে তারপরেই ফের তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ফের নতুন মোড় আসে।২০২১ ভোটে বিজেপির প্রতীকে জেতার মাত্র কয়েকদিনের মধ্য়েই ২০২১ সালের ১১ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলের অফিসে দেখা যায় মুকুল রায়কে। যদিও এরপর বিধানসভার অধ্যক্ষের ঘরে শুনানিতে, মুকুল রায়ের আইনজীবীরা যে পিটিশন জমা দেন, তাতে দাবি করা হয়, মুকুল রায় বিজেপিতে আছেন। কখনও তৃণমূলে যাননি। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক পদেই ছিলেন মুকুল। যদিও এই মুহূর্তে তিনি বিজেপির বিধায়ক কিন্তু তৃণমূলের নেতা। তাই এই মুহূর্তে প্রয়াত মুকুল রায়ের অবস্থান নির্ণয় করা সত্যি অসুবিধা।
{ads}