শেফিল্ড টাইমস ডিজিটাল ডেস্ক: এবার বড়সড় বিপাকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদেরা। যদিও, ইতিমধ্যেই তাঁরা দল ত্যাগ করে NCPI -এ যোগ দিয়ে NDA -র শরিখ হয়েছেন। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদারদেরদের দলবদল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একটি সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, অভিষেকের করা সেই মামলার উপর ভিত্তি করে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI) -এর ২০ জন সাংসদকেই নোটিস দিয়েছে শীর্ষ আদালত। তাঁদের প্রত্যেককেই এই প্রসঙ্গে নিজেদের বক্তব্য আলাদা করে জানাতে হবে। দু’সপ্তাহ পর হবে এই মামলার পরবর্তী শুনানি।
প্রসঙ্গত, ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ কে নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গের রাজনৈতিক মহলে কম জলঘোলা হয়নি। মূলত বিদ্রোহী সাংসদদের পদ খারিজের আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে দাখিল করা এই সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তিতে দেরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করে, শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছিলেন তৃণমূল নেতা। একইসঙ্গে লোকসভার স্পিকার ও সেক্রেটারি জেনারেলের বিরুদ্ধে রিট পিটিশন ফাইলন করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার এই মামলাটির শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনের বেঞ্চে।
চলতি বছরের জুলাই মাসেই এই ২০ জন বিদ্রোহীদের সাংসদ পদ খারিজ করতে চেয়ে স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। আগস্টেও একই আর্জি নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন অভিষেক। এই প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই ২০ জন মুখে বলছে তাঁরা এনসিপিআই। অন্য দিকে সংসদে তাঁরা যখন বক্তব্য পেশ করছেন নামের পাশে লেখা থাকছে AITC । এটা হতে পারে না।‘ পরবর্তীতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্পিকার এই আবেদনগুলির প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত না নিলে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি।
যদিও, তাঁর এই হুঁশিয়ারীকে খুব একটা গুরুত্ব দেননি NCPI -এ যোগ দেওয়া সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেন, ‘‘লোকসভার বিষয়ে স্পিকারই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী। অন্য কেউ তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। যিনি এ সব বলছেন, তাঁর সংসদীয় রাজনীতি সম্পর্কে জ্ঞান সীমিত।’’
যদিও কালীঘাট তৃণমূলের যুক্তি, এই সংসদেরা নির্দিষ্ট একটি দলের প্রতীকে নির্বাচিত। এখন অন্য একটি দল গঠন করে তাতে যোগদান করার বিষয়টি বেআইনি। সেই কারণেই তাদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করা উচিত।
