সুদেষ্ণা মন্ডল, দক্ষিন ২৪ পরগনা: কলকাতার ধর্মতলায় পুলিশের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধের পরেই গ্রেফতার হয়েছিলেন ISF বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তারপর থেকে একবারের জন্যও মিলল না জামিন। বৃহস্পতিবারও বারুইপুর আদালতে খারিজ হয়ে গেল তাঁর জামিনের আবেদন। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতেই থাকতে হবে নওশাদকে। ঘটনাচক্রে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি নওশাদ সহ ধৃতদের ‘নিঃশর্ত মুক্তি’র দাবিতে কলকাতায় মিছিলের ডাক দিয়েছে ISF। সূত্রের খবর, এদিন আদালতে নওশাদের আইনজীবী রাজ্য বাজেট অধিবেশনে তাঁর উপস্থিত থাকার পক্ষে সওয়াল করে আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু নওশাদের আইনজীবীর কোনও সওয়ালেই কাজ হয়নি। বাজেট অধিবেশনের জন্য জামিনের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেওয়া যাচ্ছে না নওশাদ সিদ্দিকিকে, শুনানির শেষে এমন নির্দেশ দেয় আদালত।
{link}
এদিন সকালে বারুইপুর আদালতে পেশের সময় বেশ খোশমেজাজেই দেখা যায় ISF-এর বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে। আদালত চত্বরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে বেশ হাসিমুখেই কথা বলেন তিনি। প্রিজন ভ্যানের উপরে দাঁড়িয়েই তিনি বলেন, “প্রশাসনের কাছে আমার মোবাইল ফোন দেওয়া আছে। মোবাইল ভালো করে পর্যবেক্ষণ করে দেখুন, দুধ কা দুধ, পানি কা পানি, সব আলাদা আলাদা হয়ে যাবে। আর কোনও প্রমাণ থাকলে আমার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালু করুন প্রশাসন”। সেই সঙ্গে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, “আমি জেলে বসে থাকলেও আমার সঙ্গে সবার কথা হচ্ছে। সকলের সঙ্গে কথা বলছি”। তিনি আরও বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তিনি রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হয়েছেন। নওশাদের বক্তব্য, “পঞ্চায়েত নির্বাচনের জন্যই আমাকে এভাবে আটকে রাখা। রাজ্য সরকার আমাকে ভয় পেয়েছে বলেই আমাকে আটকে রাখছে”।
{link}
এদিকে প্রায় ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও নওশাদ সহ বাকি ১৩ জন এখনও জামিন না পাওয়ায় রীতিমতো আন্দোলনে নামার পরিকল্পনা করেছে ISF নেতৃত্ব। সেই লক্ষ্যেই ১৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতাতে প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। আর এদিকে তাতে শামিল হওয়ার কথা জানিয়ে দিয়েছেন বাম নেতৃত্ব। বামেদের মতে, তৃণমূল ও বিজেপির বাইরে বিধানসভায় প্রকৃত বিরোধী দলের প্রতিনিধি এক জনই। তাই নওশাদের মুক্তির দাবিতে তৃণমূল ও BJP-র বাইরের সব মানুষদেরই এগিয়ে আসা উচিত, রাস্তায় নামা উচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর ফলে আগামী ১৪ তারিখ আরও একটি জবরদস্ত মিছিল দেখতে চলেছে শহর কলকাতা। সেই সঙ্গে আজ নওশাদের আবার জেল হেফাজত হওয়ায় এই আসন্ন মিছিলের গুরুত্ব কয়েকগুন বেড়ে গেল বলেই মনে করছেন রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। ভাঙড়ের আইএসএফ কর্মীরা, বারইপুর আদালতের সামনে স্লোগান দিলেন। ভাঙরের বিধায়ক তথা আইএসএফ নেতা নওশাদ সিদ্দিকীকে আবারও ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয় বারুইপুর আদালত। আগামী দিনে তার এই গ্রেফতারী নিয়ে যে রাজ্য রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে তা স্পষ্ট।
