তাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে মাল্যদান করার পর যদি প্রধানমন্ত্রীর হৃদয়ের পরিবর্তন হয় তবে সবথেকে বেশি খুশি হবেন নিজে বলে মন্তব্য করলেন ফিরহাদ হাকিম। শনিবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৫ তম জন্ম শতবার্ষিকী পালন করা হলো কলকাতা পুরসভায়। উপস্থিত ছিলেন কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। প্রথমে তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র মূর্তিতে মাল্যদান করেন এবং তারপরে তার পাশাপাশি একটি বই উদ্বোধন করেন। মূলত চিত্তরঞ্জন দাস সহযোগে অন্যান্য যারা কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র পদে ছিলেন তাদের সম্পর্কে প্রকাশিত হয় বইটি।
কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম নেতাজির প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। সেখানে তিনি মন্তব্য করেন নির্বাচনের আগে কখনোই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। কারণ তিনি দেশের নায়ক। পরাক্রম দিবসের পরিবর্তে দেশনায়ক দিবস পালন করা হলেই তা উচিত হত মনে মনে করছেন তৃনমূলের এই শীর্ষ নেতৃত্ব। শুধুমাত্র তাকে নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি যেভাবে দেশের জন্য নিজেকে আত্ম বলিদান দিয়েছিলেন তা সবার মনে রাখা উচিত ।এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের কার্যকলাপ সম্পর্কে কটাক্ষ করেছেন তিনি। তিনি জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার সমস্ত জিনিসের নাম বদল করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট এর নাম বদল করে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে রাখা হয়েছে। যা একেবারেই উচিত নয়। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামে ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাই তিনি জানিয়েছেন যদি নাম দেওয়ার হয় সরকারের তাহলে নতুন করে কোন কিছু সৃষ্টি করে তার নাম দিক কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরিবর্তে সমস্ত পুরোনো স্মৃতিসৌধগুলির নাম পরিবর্তন করে সেই সব মানুষদের অবমাননা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি।
বাংলায় নেতাজির জন্মদিন মানে কার্যত প্রতি ঘরে ঘরে উৎসব। এবার তাকে ঘিরে কার্যত একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে। সত্যিই কি নেতাজিকে প্রাপ্য সম্নান দেওয়ার জন্যই এই সকল পদক্ষেপ, নাকি এর পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থ? প্রশ্ন কিন্তু রয়েই যাচ্ছে।
