নিজস্ব সংবাদদাতা,পূর্ব মেদিনীপুরঃ দীঘা মেচেদা রেলপথে চলন্ত লোকাল ট্রেনের কামরা থেকে পড়ে গুরুতর জখম হলেন এক মহিলা। ঘটনাটি পূর্ব মেদিনীপুরের আশাপূর্ণা স্টেশন সংলগ্ন এলাকার। পুলিশ সূত্রের খবর,আহত ওই মহিলার নাম লক্ষ্মী হালদার। তিনি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া থানার কনকপুরের বাসিন্দা। ঠিক কি কারণে ওই বিপত্তি তা এখনও স্পষ্ট নয়। ওই মহিলার রেল ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
{link}
স্থানীয় সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালে সৈকত দীঘা থেকে লোকাল ট্রেনে করে মেচেদার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। ওই মহিলার সঙ্গে ছিলেন সাড়ে তিন বছরের শিশুপুত্র ও তার স্বামী। দিঘা কাঁথি রেলপথে আশাপূর্ণা স্টেশনের সংলগ্ন এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যায় ওই মহিলা। এরপর সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের অন্যান্য যাত্রীরা চেন টেনে ট্রেন থামিয়ে ওই মহিলাকে উদ্ধার করে। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই মহিলাকে ওই ট্রেনে চাপিয়ে কাঁথি রেলস্টেশনে নিয়ে আসা হয়। যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ ওই মহিলা স্টেশনে শুয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন। তার রক্তাক্ত দেহের পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়ে সাড়ে তিন বছরের শিশুপুত্র। চিকিৎসার জন্য কোন ভাবে সহযোগিতা করেনি রেল পুলিশ এমনটাই অভিযোগ যাত্রী থেকে এলাকার স্থানীয় দোকানদার দের। দীর্ঘ এক ঘন্টা যন্ত্রণায় ছটফট করার পর ওই মহিলাকে রেল পুলিশের সহযোগিতায় গাড়িতে করে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। আপাতত সেখানেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন ওই মহিলা।
{link}
ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রেল পুলিশ সহ কাঁথি থানার পুলিশ। প্রশাসন সূত্রের খবর, ওই মহিলার স্বামীর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল অফ। তবে চলন্ত ট্রেন থেকে ওই মহিলার পড়ে যাওয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে রেল পুলিশের নিরাপত্তা নিয়েও। যদিও এ বিষয়ে রেল পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একাধিকবার রেলের আধিকারিককে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। রেলের একাংশ যাত্রীদের দাবি, সেলফি তুলতে গিয়েই ঘটেছে এমন বিপত্তি। কিন্তু প্রশ্ন হল, সেলফি তুলতে গিয়ে যদি ওই মহিলা পড়ে যান তাহলে তার স্বামীর মোবাইল সুইচ অফ কেন?
