নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়াঃ প্রথমবার কমনওয়েলথ গেমসে যোগ দিয়েই সোনা। সারা বিশ্বের নজর কেড়ে নিয়েছেন হাওড়ার সোনার ছেলে অচিন্ত্য শিউলি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই বঙ্গসন্তানের প্রসংসা করেছেন। বার্মিংহামে অচিন্ত্য সোনা জেতার পর থেকেই তাঁর গ্রামে শুরু হয়েছে উৎসব। সোনার ছেলে কবে বাড়ি ফিরবেন, সেই অপেক্ষাতেই ছিলেন তাঁর পরিবারের লোকজন, প্রতিবেশীরা। অবশেষে বাড়ি ফিরলেন হাওড়ার ভারত্তোলক। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে হাজির ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি, বিওএ সভাপতি স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়, আইএফএ সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়। অচিন্ত্যর পরিবারের লোকজন, বন্ধুরাও বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে যান। অচিন্ত্য বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন জানানো হয়।
{link}
বিমানবন্দরের মতোই দেউলপুরে বাড়িতেও অচিন্ত্যকে স্বাগত জানানোর জন্য বিশেষ আয়োজন করা হয়। ছেলেকে স্বাগত জানাতে ও বরণ করে নিতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন তাঁর মা পূর্ণিমা শিউলি। সোমবার বিকেল থেকেই ছেলেকে খাওয়ানোর জন্য নিজের হাতে তৈরি করেছেন কড়াইশুঁটির কচুরি ও চানা মশলা। সঙ্গে দই-মিষ্টি তো রয়েছেই । ভোর থেকেই দেউলপুরের গর্ব অচিন্ত্যকে স্বাগত জানানোর জন্য তৈরি ছিল গ্রাম। বাড়িতে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। সোনার ছেলেকে স্বাগত জানাতে স্থানীয় মানুষ রাত জাগেন। অচিন্ত্য বাড়ি পৌঁছতেই পুষ্পবৃষ্টি ও জয়ধ্বনি দিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন গ্রামের মানুষ ও স্থানীয় ক্লাবের যুবকরা। অনেকেরই হাতে ছিল জাতীয় পতাকা। দেশের ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবসের আগে অচিন্ত্যর এই সাফল্য উৎসবের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয়দের ভালোবাসার অত্যাচারের পর্ব পেরিয়ে বাড়ি পৌঁছতেই অচিন্ত্যকে বরণ করে, মিষ্টি খাইয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন মা।
{link}
অচিন্ত্যর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান তৃণমূল বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ। তিনি এই ক্রীড়াবিদের হাতে ২৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। রাজ্যের সমবায়মন্ত্রী অরূপ রায়ও অচিন্ত্যর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে ফুল ও মিষ্টি দিয়ে অভিনন্দন জানান। এবারের কমনওয়েলথ গেমসে ভারত্তোলনের ৭৩ কেজি বিভাগে মোট ৩১৩ কেজি ওজন তুলে সোনা জেতেন অচিন্ত্য। এর আগে জুনিয়র বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে রুপো জিতেছিলেন এই বঙ্গসন্তান। ফলে প্রথমবার কমনওয়েলথ গেমসে যোগ দিলেও, তাঁকে নিয়ে প্রত্যাশা ছিলই। অচিন্ত্য নিজেও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। শেষপর্যন্ত প্রত্যাশা পূরণ করে সোনা জিতেই বাড়ি ফিরলেন এই বঙ্গসন্তান।

