নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া: বিকেল পাঁচটা থেকে চলছে কসরত। সফল হতে সময় লাগল পাক্কা চার ঘন্টা। রবিবার বিকেল থেকে কার্যত টানা কয়েক ঘন্টা কসরতের পরেই রাত ৯টা নাগাদ ৯০ ফুট উঁচু জলের ট্যাঙ্কের ওপর থেকে ভবঘুরে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে নিচে নামানো সম্ভব হয়েছে। ঘটনাটি হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন পূর্ব রেলের কাছে। ৯০ ফুট উঁচু জলের ট্যাঙ্ক থেকে তাঁকে নিচে নামাতে কার্যত কালঘাম ছুটে যায় দমকল ও পুলিশের উদ্ধারকারী দলের।
{link}
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় একশ ফুট উঁচু ল্যাডার আনা হয় ওই ব্যাক্তিকে নীচে নামানোর জন্য। সেফটির কারণে ট্যাঙ্কের চারপাশে পাতা হয় নাইলনের মোটা জাল। প্রথমে গঙ্গার দিক থেকে দুজন দমকল কর্মী ল্যাডারের সাহায্যে ট্যাঙ্কের মাথায় ওঠেন। এর পাশাপাশি রেল মিউজিয়ামের দিক থেকেও তোলা হয় আরও কর্মীকে। তারাই কথা বলার অছিলায় ওই মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে ধরে ফেলেন। এরপর ল্যাডারে নামিয়ে আনা হয় তাকে। ওই ব্যক্তি কি কারণে সেখানে উঠেছিলেন বা তাঁর পরিচয় কি তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, রবিবার বিকেল ৫টা নাগাদ হাওড়া স্টেশন লাগোয়া পূর্ব রেলের প্রায় ৯০ ফুট জলের ট্যাঙ্কের মাথার উপর এক ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পথচারী এবং রেলের যাত্রীদের প্রথমে বিষয়টি নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় রেল পুলিশে। রেল পুলিশের পক্ষ থেকে খবর দেওয়া হয় দমকলে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় দমকলের দুটি ইঞ্জিন। পুলিশের পদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। পুলিশের এবং দমকলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে দড়ি দিয়ে কর্ডন করে ঘিরে রাখেন।
{link}
এই ঘটনা দেখতে পথচারী এবং যাত্রীরা ঘটনাস্থলে ভীড় জমাতে শুরু করেন। পুলিশ ও দমকল কর্তারা চেষ্টা করেছিলেন যাতে পুরোপুরি অন্ধকার নামার আগেই তাঁকে ট্যাঙ্কের মাথা থেকে উদ্ধার করা যায়। কি করে ওই ব্যক্তি ট্যাঙ্কে উঠলেন তার কারণ এখনও পুলিশের কাছে স্পষ্ট নয়। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, প্রায় ৯০ ফুট উঁচু ট্যাঙ্কের পাশে একটা সরু লোহার সিঁড়ি আছে। সেই সিঁড়ি দিয়ে ট্যাঙ্কের মাথার ওপরে ওঠা যায়। জানা যায়, ওই ট্যাঙ্কের চারপাশ ঘেরা ছিল। সেই কারণে সকলের নজর এড়িয়ে তিনি ওপরে উঠে পড়েন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান।
