নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া: ফের বাঁকুড়ায় ঘাঁটি গেড়েছে 'পরিযায়ী' হাতির দল। সূত্রের খবর, বড়জোড়া রেঞ্জ এলাকার জঙ্গলে বেশ কয়েকটি 'আবাসিক' হাতি রয়েছে। তারপর নতুন করে ওই এলাকায় পৌঁছেছে ২ টি শাবক সহ ১২ টি হাতির একটি দল। যার ফলে হাতির আতঙ্কে রাত জাগছেন বাঁকুড়ার বড়জোড়া এলাকার পাবয়া, ডাকাইসিনী, বনশোল, শ্যামপুর সহ জঙ্গল লাগোয়া বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ।
{link}
বনদপ্তর সূত্রের খবর, গত দু'দিন আগেই কংসাবতী নদী পেরিয়ে পাঞ্চেত বন বিভাগে ঢোকে ঐ হাতির দলটি। পরে সোনামুখী হয়ে বড়জোড়ার পাবয়া জঙ্গলে পৌঁছানোর পর তারা সেখানেই অবস্থান করছে বলে জানা গেছে। আর এই খবর পাওয়া মাত্রই যথেষ্ট আতঙ্কিত জঙ্গল লাগোয়া পাবয়া, ডাকাইসিনী, বনশোল, শ্যামপুর এলাকার মানুষ। ফলে হাতির আক্রমণের হাত থেকে ফসল ও সম্পত্তি রক্ষার জন্য গ্রামবাসীরা নিজেদের মতো করেই রাতে গ্রাম পাহারা দিচ্ছেন। হুলো হাতে আর জায়গায় জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে রেখে বিনিদ্র রাত কাটছে ঐ গ্রামের মানুষের। এ বিষয়ে এক গ্রামবাসী বলেন, “আমরা মাটির বাড়িতে বাস করি। এমন অনেক বার হয়েছে সেই মাটির বাড়িতেই আক্রমণ চালিয়েছে হাতির দল। এখন সন্ধ্যার পর আর বাড়ির বাইরে যাওয়া যায় না। ছাত্র ছাত্রীদের পড়াশুনা যেমন লাটে উঠেছে তেমনি বাজার হাটে যাওয়াও বন্ধ। গ্রামে দোকানপাট নেই। ফলে ফুলবেড়্যা মোড়ে না গেলে খাবারও জোটেনা।“ এর আগে গ্রামে একাধিকবার হাতির হানা হলেও কেউ সরকারী ক্ষতিপূরণ পাননি বলেই তিনি দাবি করেন। তবে হাতির এত তান্ডবের পরেও বনদপ্তরের কর্মীদের কোন ভূমিকা নেই। এই বিষয়ে এক গ্রামবাসী বলেন, “সাহায্য তো দূরের কথা, হাতি এলাকায় ঢুকলে সেই খবর জানানোর সৌজন্যতাটুকুও দেখায়নি বন দপ্তর। জমির ফসল নষ্টের পাশাপাশি গ্রামে ঢুকেও অবাধে তাণ্ডব চালায় হাতির দল।“
{link}
তাই হাতির হাত থেকে বাঁচতে নিজেদের মতো করে আত্মরক্ষার চেষ্টা করে গ্রামে রাত পাহারা দেওয়ার বিষয়টি গ্রামবাসীরা অভ্যাসে পরিনত করে নিয়েছেন। বাঁকুড়া উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বনাধিকারিক উমর ইমাম জানান, ২৪×৭ ঐ হাতি গুলির উপর বনদপ্তরের নজর রয়েছে। ৩ টি 'আবাসিক' হাতির পাশাপাশি দলমা থেকে ১২ হাতির একটি দল ঐ এলাকায় ঢোকার সঙ্গে ১০০ জন পুরো বিষয়টিতে নজর রাখছেন। গত দু'দিনে কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। আরো একাধিক হাতির দল ওই এলাকায় ঢুকলে সবসময় বনকর্মীরা থাকবেন বলেই তিনি জানান।
.jpeg)
