সুদেষ্ণা মন্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ শ্বশুরের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গৃহবধূকে মারধরের অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। পুলিশের কাছে বারবার জানিয়েও কোন রকম সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ। তাই শেষমেশ সুবিচারের আশায় মহামান্য হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই মহিলা। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানায়।
{link}
গৃহবধূর অভিযোগ, তার স্বামী সুজয় দাস পরিযায়ী শ্রমিক। তাই তিনি মাঝে মাঝেই অন্য রাজ্যে কাজে চলে যান। অভিযোগ, সেই সময়ে একা বৌমাকে পেয়ে বারে বারে কুপ্রস্তাব দেন শ্বশুর। নিরুপায় অসহায় ওই মহিলা প্রতিবাদ করতে গেলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পরে স্বামী বাড়িতে ফিরে এলে স্বামীকে সমস্ত বিষয়ে খুলে বলেন ওই মহিলা। কিন্তু তার স্বামী তার কথা বিশ্বাস করেননি। ওই গৃহবধূর অভিযোগ, তার শ্বশুর স্বামীকে বুঝিয়েছিলেন বাবাকে কলঙ্কিত করছেন তিনি। অভিযোগ, এরপর তার বাবার বোঝানো কথায় তিনি স্ত্রীর উপর অকথ্য নির্যাতন শুরু করে দেন। গৃহবধূর আরও অভিযোগ, এই কলঙ্কের হাত থেকে গোটা পরিবারকে বাঁচানোর জন্যই তাকে খুন করার চক্রান্ত করা হয়েছিল শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে।
{link}
এরপরেই ওই গৃহবধূ তার ছোট প্রতিবন্ধী সন্তানকে নিয়ে প্রাণে বাঁচতে কোনো রকমে ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানা এলাকায় বাপের বাড়িতে চলে আসেন। সুবিচারের আশায় কাকদ্বীপ ফৌজদারি আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি। আদালত ওই মহিলার জবানবন্দি নেওয়ার পরে নামখানা থানাকে ধর্ষণ ও খুনের চক্রান্ত এর মামলা রুজু করার আদেশ দেন। কিন্তু থানা নিম্ন আদালতের আদেশ সঠিকভাবে পালন না করায় বাধ্য হয়ে ওই মহিলা থানা ও স্বামী-শ্বশুরের বিরুদ্ধে শেষমেষ মহামান্য হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। আপাতত তিনি সুবিচারের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
