সুদেষ্ণা মন্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রং তুলির সঙ্গে সম্পর্ক অনেকদিনের। ছোটবেলা থেকেই তার ছবি আঁকার প্রতি প্রবল নেশা। ছবি এঁকে একের পর এক সাফল্য অর্জন করেছেন জীবনে। বিভিন্ন ছবি এঁকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে মোট ৩২ টির মত পুরস্কারও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। তবে এবার ক্ষুদ্র কীট পিঁপড়ের ছবি এঁকে বঙ্গ গৌরব সম্মান পেলেন কাকদ্বীপের শিল্পী দেবরাজ বেরা। ছেলের এত বড় সাফল্যে খুশি দেবরাজের পরিবার সহ কাকদ্বীপবাসী।
{link}
ছেলেবেলা থেকেই অভাব কে সঙ্গী করে বড় হয়েছে দেবরাজ। দেবরাজের বাবা পেশায় একজন ভ্যানচালক। অভাবের সংসারে দেবরাজও মাঝে মধ্যেই বাবাকে সহযোগিতা করতে ভ্যান চালাতেন। সংসারের হাল ধরতে ট্রেনের হকারি পর্যন্ত করেছেন তিনি। তবে বহু অভাব অনটনের মধ্যেও ছবি আঁকা টাকেই যেন জীবনের নেশা করে নিয়েছিলেন তিনি। এরপর কঠোর অধ্যাবসায়ের পর একটু একটু করে সাফল্যের সিঁড়ি চড়তে শুরু করে দেবরাজ। ছবি এঁকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছেন কাকদ্বীপের যুবক। তবে আজও প্রিয় ভ্যানটি যত্ন করে তুলে রেখেছেন বাড়ির সামনেই। তাঁর কাজ মূলত থ্রিডি পেন্টিং এর উপর। তাঁর তুলির টানের কাজ দেখলে এক পলকে মনে হবে সেই ছবি গুলি যেন জীবন্ত। পিঁপড়ের মতো ক্ষুদ্র প্রাণী নিয়ে তিনি কাজ করেছেন। ছবি আঁকার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন তাদের চলাফেলা। আর যার সাফল্য হিসেবে তিনি পেয়েছেন এই বঙ্গ গৌরব সম্মান। এর আগেও একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে ছবি আঁকার মাধ্যমে আরো ভালো কাজ করে এগিয়ে যেতে চান তিনি। সুন্দরবন আর্ট অ্যাকাডেমি নামে একটি স্কুল নিজেই পরিচালনা করেন তিনি। তবে অর্থের অভাবে সেই স্কুলটিকে বড় আকারে গড়ে তুলতে পারছে না।
{link}
বর্তমানে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোনায় ওই স্কুল কোন রকমে চালাচ্ছেন তিনি। ভবিষ্যতে স্কুলটিকে আরো বড় করে গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। এ বিষয় নিয়ে দেবরাজ বেরা জানান,বঙ্গ গৌরব সম্মান পেয়ে তিনি খুব খুশি। সকলের কাছে তাঁর বার্তা ছবি এঁকেও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়। দারিদ্রতা খুব কাছ থেকে দেখার স্মৃতি এখনো ভুলতে পারেননি তিনি । সেই জন্য তাঁর স্কুলে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের কেউ ছবি আঁকা শিখতে এলে বিনামূল্যে তাকে ছবি আঁকা শেখাতে চান তিনি। ছবি আঁকা কে জীবনের পাথেয় করে ভবিষ্যতে আরও কাজ করতে চান তিনি।
