নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম: শিবভক্ত অনুব্রতের আরও একটি রাইস মিলে এবার হানা দিল সিবিআই। বীরভূমের দোর্দন্ড প্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের তত্ত্বাবধানে চলা মূল দুটি রাইস মিল হল ভোলে বোম রাইস মিল এবং শিব শম্ভু রাইস মিল। শুক্রবার বীরভূমের কালিকাপুরে অবস্থিত ভোলে বোম রাইস মিলে সিবিআই হানা দিয়ে উদ্ধার করেছিল দেশী বিদেশী পাঁচটি গাড়ি সহ একাধিক নথি। যার ফলে এবার সিবিআই এর নজর বাঁধা গোরার শিব শম্ভু রাইস মিলের দিকে।
{link}
বোলপুরে ভোলে বোম রাইস মিলের পর অনুব্রত ঘনিষ্ঠদের নামে আরও ১২টি রাইস মিলের হদিশ পাওয়া গিয়েছে বলে সিবিআই সুত্রে খবর। তার মধ্যে অনুব্রত ঘনিষ্ঠ রাজীব ভট্টাচার্যর ৭ টা রাইস মিল রয়েছে। জানা যায় রাজীব হলেন অনুব্রতর বিনিয়োগকারী। এছাড়াও, অনুব্রতর ভগ্নিপতি কমলকান্তি ঘোষ শিব শম্ভু রাইস মিলের মালিক। এই রাইস মিলটি রয়েছে বোলপুরের বাঁধ গোরা এলাকায়। জানা যায় মহানন্দা নামে আরও একটি রাইস মিলের মালিক পারমিতা ঘোষ ও রাজা ঘোষ। রাজা হলেন অনুব্রতর ভাগ্নে। মা শান্তি ময়ী রাইস মিলের মালিক সুকুমার মজুমদার, সঞ্জীব মজুমদার। এঁরা প্রত্যেকেই অনুব্রতর আত্মীয় বলে সূত্র মারফত জানা যায়। সিবিআই সূত্রে জানা যায়, এইভাবে বীরভূমের ছোট-বড় একাধিক মিলের অংশীদারিত্ব রয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের আত্মীয়দের নামে। পাশাপাশি সূত্র মারফত জানা গেছে, ভোলে বোম রাইস মিলের সঙ্গে রাজ্য রেশন দফতরের সংযোগ পাওয়া গেছে।
{link}
উল্লেখ্য, সিবিআই ভোলে বোম রাইস মিলে হানা দিয়ে যে নথি উদ্ধার করেছে তাতে দেখা গিয়েছে এই মিল থেকে চাল নিত রাজ্য রেশন দফতর। যা রেশন ডিলারদের পাঠানো হত। রাজ্য খাদ্য দফতরের সঙ্গে ভোলে বোম রাইস মিলের চুক্তি সংক্রান্ত নথি উদ্ধার হয়েছে। আরও জানা গেছে বর্তমানে কেন্দ্র চাল না দিয়ে তার পরিবর্তে টাকা দিত। সেই টাকায় রাজ্য চাল কিনে রেশন মাধ্যমে চাল সরবরাহ করে গ্রাহকদের। এদিনের অভিযানে সিবিআই আধিকারিকদের সঙ্গে রয়েছেন এফসিআই আধিকারিকেরাও। তবে তাঁরা রাইস মিলে আসতেই গেটে তাঁদের আটকানো হয়নি। ডাকাডাকি করার সঙ্গে সঙ্গেই গেট খুলে দেওয়া হয়। তারপর গোয়েন্দারা রাইস মিলের ভিতরে ঢুকে সমস্ত নথি খতিয়ে দেখেন। দীর্ঘদিন এই রাইস মিলটি বন্ধ ছিল। যার ফলে গোয়েন্দাদের সন্দেহ আরও জোরাল হচ্ছে।

