নিজস্ব সংবাদদাতা, বীরভূম: কিছুদিন আগে মানসিক অবস্থা ভালো নেই এমনটাই জানিয়ে দোরগোড়া থেকে সিবিআইকে ফেরত পাঠিয়েছিলেন অনুব্রত কন্যা। কিন্তু শুক্রবার আর সিবিআইকে ফেরাতে পারলেন না তিনি। গরু পাচার মামলায় এবার সুকন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডলের বাড়িতে আবারও হাজির হল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসারেররা।
{link}
গত ১৭ অগস্ট অনুব্রত-কন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এসেও ফিরে যেতে হয়েছিল আধিকারিকদের। সে সময় সুকন্যা জানিয়েছিলেন যে, তাঁর মানসিক অবস্থা ভাল নয়। তাই এ বার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে সমস্ত রকম আইনি প্রক্রিয়া সেরে গিয়েছেন আধিকারিকরা। শুক্রবার দুপুরে বোলপুরের নিচুপট্টি এলাকায় অনুব্রতের বাড়িতে গিয়েছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, অনুব্রত-কন্যা সুকন্যা মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন সিবিআই আধিকারিকরা। অনুব্রতকে গ্রেফতারের পর একাধিক সম্পত্তির হদিস পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করেছেন তদন্তকারীরা। বীরভূম এলাকায় একাধিক চালকলেও হানা দেন আধিকারিকেরা। সেই চালকলগুলির মধ্যে অন্যতম ‘ভোলে বোম রাইস মিল’। ওই চালকলের প্রাক্তন মালিক শ্যামল মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল সিবিআইএর অস্থায়ী ক্যাম্পে। তাঁকেও শুক্রবার পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। শান্তিনিকেতনে সিবিআই-এর অস্থায়ী শিবিরে গিয়েছেন অনুব্রতের হিসাবরক্ষক মণীশ কোঠারিও।গরু পাচার-কাণ্ডে অনুব্রত ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৬.৯৭ কোটি টাকার হদিস পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।
{link}
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, হদিস পাওয়া বিপুল পরিমাণ টাকার অঙ্ক বিভিন্ন জেলার একাধিক ব্যাঙ্কে মূলত স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট) হিসাবে রয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা ও বীরভূমে অনুব্রতের প্রয়াত স্ত্রী ছবি মণ্ডল ও কন্যা সুকন্যা মণ্ডলের নামে একাধিক সম্পত্তি সিবিআইয়ের আতশকাচের তলায়। বোলপুরে অনুব্রত-ঘনিষ্ঠদের নামে একাধিক চালকলেরও সন্ধান পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এই প্রেক্ষাপটে সুকন্যাকে জিজ্ঞাসাবাদ নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সিবিআইএর মতে অনুব্রত কন্যার কাছ থেকে গরু পাচারের একাধিক তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এর পাশাপাশি এই বিপুল সম্পত্তির উৎস কী সেই বিষয়েও জানার চেষ্টা করছেন আধিকারিকেরা।
