ব্রিগেডে এক মঞ্চে আব্বাস সিদ্দিকি ও মহম্মদ সেলিম। এই চিত্রটা বহু বাম সমর্থকই মেনে নিতে পারেননি। বলেছিলেন, এটা মেনে নেওয়া যায়না, ভুল করছে দল। তার পরেই একুশের নির্বাচনে ভরাডুবি। অবশেষে সেই ভুল স্বীকার বামেদের। গতকাল, শনিবার দলের পর্যালোচনা বৈঠকে দলীয় নেতৃত্ব স্বীকার করেছেন যে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএমএফ-এর সঙ্গে জোটের খেসারত দিতে হয়েছে বামেদের। এই দলের সঙ্গে জোটের জেরে বামেদের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি ধাক্কা খেয়েছে বলেও আলোচনা হয়েছে বৈঠকে বলে সূত্রের খবর।
{link}
সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গড়ে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন বামেরা। লোকসভা নির্বাচনেও জোট হয়েছিল। সেই জোটের গাঁটছড়াই পোক্ত হয় এই নির্বাচনে। এই পর্যন্ত কোনরকম ক্ষতি বা ভুল ছিল না। তারপরেই ভোটের আগে আগে বাম-কংগ্রেসের এই জোটে শামিল হয় হুগলির ফুরফুরার আব্বাস সিদ্দিকির দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট, সংক্ষেপে আইএসএফ। বাম-কংগ্রেস এবং আইএসএফের জোটের তরফে প্রার্থী দেওয়া হয় রাজ্যের সবকটি আসনেই। তার পরেও ২৯২টি আসনের মধ্যে একটি মাত্র কেন্দ্র ভাঙড় ছাড়া আর কোথাও দাঁত ফোটাতে পারেনি জোট। সেই ভাঙড়েও জয়ী হয়েছেন আইএসএফ প্রার্থী।
জোটের অন্য দুই শরিক বাম এবং কংগ্রেস কার্যত রাজ্য থেকে ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যায়। কেন দলের এই হাল, তা জানতে শনিবার পর্যালোচনা বৈঠকে বসেছিল আলিমুদ্দিন। সেখানেই কবুল করা হয় আইএসএফের সঙ্গে জোট গড়াটা ঠিক হয়নি। কারণ আব্বাসের দলের সঙ্গে জোট গড়ায় বড়োসড়ো ধাক্কা খেয়েছে বামেদের ধর্ম নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি। তাই মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন কাস্তে-হাতুড়ি তারার দিক থেকে। সেই কারণেই ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা একটি দলের পক্ষে বিধানসভায় বাতি দেওয়ার কেউ নেই।
{link}
আব্বাসের দলের সঙ্গে জোট গড়া নিয়ে আলোচনার শুরুতেই একপ্রস্ত জোর বিতর্ক হয়। রাজ্য কমিটির একাধিক নেতা এনিয়ে সরব হন। রাজ্য কমিটিতে কোনওরকম আলোচনা ছাড়াই আব্বাসের দলের সঙ্গে জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন কেউ কেউ। যার জেরে বৈঠকের একেবারে শেষ পর্বে ভুল কবুল। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার প্রথমত কংগ্রেসের সাথে জোটও বহু বাম নেতা মেনে নিতে পারেননি। তার উপর আইএসএফ তো আরোই নয়। এখন কাস্তে হাতুড়ী তারা তাদের পুরোনো ভাবমূর্তি মানুষের মধ্যে আবার ফিরিয়ে আনতে পারেন কি না, তাই দেখার বিষয়।
