নিজস্ব সংবাদদাতা,শিলিগুড়িঃ পথের পাঁচালিতে অপুর অবাক বিষ্ময়ে রেলগাড়ি দেখতে যাওয়ার গল্প অনেক শিশুর মনেই প্রভাব ফেলে। গ্রামে গঞ্জে এখনও একদল শিশু জড়ো হয়ে রেলগাড়ি রেলগাড়ি খেলাও খেলে থাকে। শিশুদের মনে রেলগাড়ির প্রতি যে একটা আলাদা আকর্ষণ রয়েছে তা এই উদাহরণ গুলি থেকেই স্পষ্ট। তাই শুধুমাত্র পড়াশোনার গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ না থেকে পড়া পড়া খেলার অনুভুতিকে মনে জাগরিত করতে শিলিগুড়ির সি এস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে রেলগাড়ির কামরার রূপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
{link}
শিলিগুড়ি শহরের অদূরে জঙ্গলে ঘেরা রাজগঞ্জ ব্লকের শিমূলগুড়িতে রয়েছে এই বিদ্যালয়টি। ২০১৯ সালে স্কুলটির পোড়ামাটির রূপ বদলে সর্বসম্মতিক্রমে রেলগাড়ির কামরার রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এতে একদিকে যেমন পড়ুয়াদের স্কুলমুখি করা গেছে অন্যদিকে চিরাচরিত স্কুলের চারদেওয়ালের মরচে ধরা রঙ আলাদা মাত্রা পেয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য ক্রমে স্কুলটি নতুন রূপ পেতেই করোনার জেরে স্কুল বন্ধ হয়ে যায় দু বছর। বিদ্যালয়টির এই রূপ পড়ুয়ারা দূর থেকে দেখে খুশি হলেও স্কুলে না আসতে পারার জন্য আক্ষেপ করতে থাকে তারা। পরে চলতি বছর স্কুল খোলা হতেই পড়ুয়ারা দলে দলে ছুটে আসে বিদ্যালয়ে। স্কুলের যেসব পড়ুয়াদের লকডাউনে বাড়িতে থেকে থেকে স্কুলে আসার অভ্যেস নষ্ট হয়ে গিয়েছিল তারাও সহপাঠীদের মুখে স্কুলের এই ভোলবদলের কথা শুনে স্কুলে আসতে আগ্রহী হয়। ফলে স্কুলের ১০৩ জন পড়ুয়ারা সকলেই নিয়মিত স্কুলে আসতে শুরু করেছে বলে জানান স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নির্মল কান্তি সরকার।
{link}
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ধারণায়, নতুন আঙ্গিকে যদি শিশুদের পড়াশোনার বন্ধনে আবদ্ধ করা যায় তাতে পড়াশুনার প্রতি তারা বেশি করে আকৃষ্ট হয়। এই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, রাজ্যে আরও কিছু স্কুলে এমন ছবি রয়েছে বলে জানা গেছে। তা দেখেই এই ভাবনা চেপে বসে। রেলগাড়ি যেভাবে একজন যাত্রীকে তাদের নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছে দেয়, স্কুলও ঠিক সেভাবেই একজন পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করে। এই কর্মকাণ্ডের পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল পড়ুয়াদের আরও বেশী করে স্কুলমুখী করে তোলা এবং তা সফল হয়েছে বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
.jpeg)
