নিজস্ব সংবাদদাতা,হাওড়াঃ হাওড়া শহরকে লন্ডনের শেফিল্ডের সঙ্গে তুলনা করার জন্য যারা অগ্রগণ্য তারাই এ যুগের বিশ্বকর্মা। রবিবার পয়লা মে বিকেলে শ্রমিক দিবসের দিন হাওড়ার সেই বিশ্বকর্মাদের সম্বর্ধনা জানালেন মন্ত্রী অরূপ রায়। সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঈশ্বর-কণা আবিষ্কারের সঙ্গে যুক্ত হাওড়ার বিশ্বকর্মাদের এদিন হাওড়ার শরৎ সদনে এক অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা জানিয়ে সম্মান প্রদর্শন করা হয়।
{link}
ঈশ্বর কণা আবিষ্কারের সঙ্গে যুক্ত লোহার যন্ত্রাংশ তৈরির কারিগর তথা এই যুগের বিশ্বকর্মাদের এদিন সম্বর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেন রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায়। হাওড়ার যেসব মানুষদের প্রচেষ্টায় সফলভাবে সেই আবিষ্কার সম্ভব হয়েছিল এদিন রবিবার ১মে অর্থাৎ শ্রমিক দিবসের দিন শরৎ সদনে তাঁদের ওই সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। ঈশ্বর কণা আবিষ্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ধাতব হোল্ডার তৈরির দায়িত্ব পড়েছিল হাওড়ায় অবস্থিত ছোট এক লেদ কারখানার মালিকের উপর। বিশ্বের অনেক দেশেই এটি তৈরি করার চেষ্টা হলেও এত নিখুঁতভাবে কেউই তৈরি করতে পারেননি। অনেক দেশেরই বড় বড় ল্যাবরেটরিতে যা তৈরি করা সম্ভব হচ্ছিল না, হাওড়ার ওই ছোট কারখানায় খালি গায়ে কাজ করা শ্রমিকরা ১০০ শতাংশ নিখুঁতভাবে তা করে দিয়েছিলেন। এদের মধ্যে প্রধান মিস্ত্রী কালীপদ প্রামাণিক সহ সহকারি হিসেবে ছিলেন আরও কয়েকজন। হাওড়ার কদমতলার একটি লেদ কারখানায় আজ থেকে অনেক বছর আগে ওই কাজ করেছিলেন তাঁরা।
{link}
অনুষ্ঠানে অরূপ রায় বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি খুব গর্বিত। এদের অবশ্যই সম্মান প্রদান করা উচিত এবং কর্তব্য। কারণ এরা যা অভাবনীয় সাফল্য এনেছেন তা সবই তাদের কৃতিত্বে। বাপন ঘোষ মহাশয়ের কারখানায় প্রথম কাজটা দিয়েছিলেন রজত মুখোপাধ্যায়। এই সাফল্যে তারা তথা হাওড়ার মানুষ গর্বিত। হাওড়াকে এরাই শেফিল্ড বানিয়েছিলেন। সারা বিশ্বের কাছে গর্ব করে বলা যায় হাওড়া এশিয়ার শেফিল্ড। এই মানুষগুলোকে সম্মান না দিলে অন্যায় হতো। বিকাশ সিনহা, তিলক ঘোষ তারা সকলেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এককথায় তারাই এ যুগের বিশ্বকর্মা।
