নিজস্ব সংবাদদাতা, নদীয়াঃ অশনির জেরে একটানা ভারী বৃষ্টিপাত। তাপপ্রবাহ থেকে সাধারণ মানুষ কিছুটা রেহাই পেলেও কপাল পুড়ছে ধান চাষীদের। বৃষ্টির ফলে এক হাঁটু জলের তলায় কৃষিজমির পাকা ধান। কষ্টের ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় সর্বস্বান্ত চাষীরা। ক্ষতির আশঙ্কায় ঘুম উড়েছে নদীয়ার হাজার হাজার ধান চাষীর।
{link}
নদীয়া জেলা প্রধানত কৃষি প্রধান জেলা। নদীয়ার করিমপুর, তেহট্ট, কালিগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, চাপরা থেকে শুরু করে শান্তিপুর, রানাঘাট, চাকদহ সহ একাধিক বিস্তীর্ণ গ্রাম এলাকায় হাজার হাজার বিঘা ধান চাষ হয়। মূলত এই সময় কৃষকরা জমি থেকে বোরো ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রচুর টাকা খরচ করে তারা ধান চাষ করেন। কিন্তু দুদিন ধরে টানা বৃষ্টির জেরে চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়েছে চাষীদের। সঙ্গে ঝড় হাওয়ার কারণে জমিতেই পড়ে গেছে ধান গাছ। যার ফলে একহাঁটু জলের নিচে ডুবে আছে ধান। চাষীরা বলেন, দীর্ঘক্ষন জলের তলায় ধান ডুবে থাকলে সেই ধানে অঙ্কুর হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যার কারণে ইতিমধ্যেই অঙ্কুর হতে শুরু করেছে ধানে। পাশাপাশি ধান গাছের যে বিচুলি দিয়ে সারা বছর গরুর খাবারের যোগান থাকে, জলের তলায় পড়ে থাকলে সেই বিচুলি নষ্ট হয়ে যায়।
{link}
অন্যদিকে এই সময় জন শ্রমিকের অভাব দেখা যায় বলেও চাষীদের দাবি। মজুরি বেশী দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যায় না। যার কারণে ইচ্ছা থাকলেও তড়িঘড়ি ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে আসতে পারে না চাষীরা। চাষীদের দাবি, জমিতে যে পরিমান জল জমে আছে কোনভাবেই সেই ধান আর তারা বাড়িতে তুলে আনতে পারবেন না। যদি তারা বেশি সংখ্যক শ্রমিকদের দিয়ে কোনরকমে ধান কেটে বাড়িতে নিয়েও আসে, তাহলে সেই ধানের বিচুলি হবে না। পাশাপাশি যে অর্থ খরচ করে ধান চাষ করা হয় সেই অর্থ উঠে আসবে না। সেই কারণে আগামী দিনে কীভাবে সংসার চলবে তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছে নদীয়ার ধান চাষীরা।
