সুদেষ্ণা মন্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: "অতিথি দেব ভব"। এই কথাটি যেন বাংলা ও বাঙালির মনে ওতপ্রোতভাবে গেঁথে গিয়েছে। ১৮ আগস্ট বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে বাংলাদেশে একের পর এক ট্রলার প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে বঙ্গোপসাগরে ডুবে গিয়েছিল। ভারত বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে উপকূল রক্ষী বাহিনী উদ্ধার কাজে নেমে পড়ে। উদ্ধার কার্যে হাত লাগায় ভারতের উপকূল তীরবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীরাও। উদ্ধার কাজ চালিয়ে ভারতীয় উপকূলের ক্যানিং, কাকদ্বীপ, দীঘা ,রায়দিঘি ,পাথরপ্রতিমা সহ একাধিক জায়গা থেকে বাংলাদেশে মোট ১১৪ জন মৎস্যজীবীকে উদ্ধার করা হয়।
{link}
সম্প্রতি ক্যানিং থেকে ১৩ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে উদ্ধার করে মৎস্যজীবীরা। উদ্ধার হওয়া মৎস্যজীবীদের মধ্যে ৯ জন মৎস্যজীবী বর্তমানে কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে ভারতীয় মৎস্যজীবী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে অতিথি আপ্যায়নে কোনরকম ত্রুটি রাখা হচ্ছে না এমনটাই সূত্রের খবর। ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফিশারমেন অ্যাসোসিয়েশন এবং কাকদ্বীপ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের তত্ত্বাবধানে উদ্ধার মৎস্যজীবীদের রাখা হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কাকদ্বীপে রামকৃষ্ণ আশ্রমের কাছে একটি সরকারি ফ্লাড সেন্টারে। উদ্ধার হওয়া মৎস্যজীবীদের স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন দুবেলা খাবার দেওয়া হচ্ছে। দেওয়া হয়েছে কিছু শুকনো খাবারও। এছাড়াও দুর্ঘটনা কবলিত সকল মৎস্যজীবীদের দেওয়া হয়েছে নতুন জামা কাপড়। দুর্ঘটনা কবলিত অসহায় এই মৎস্যজীবীদের দাবি, ভারত-বাংলাদেশ দুই দেশের সরকার উদ্ধার হওয়া মৎস্যজীবীদের দ্রুত বাড়ি ফেরানোর জন্য উদ্যোগ নিক। কাকদ্বীপ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজন মাইতি বলেন, নিম্নচাপ ও হঠাৎই ঝড়ের কবলে পড়ে বাংলাদেশের মৎস্যজীবীর ট্রলার বঙ্গোপসাগরে ডুবে গিয়েছে। এখনো পর্যন্ত বহু মৎস্যজীবী নিখোঁজ রয়েছেন।
{link}
ভারতীয় উপকূল রক্ষী বাহিনী ও মৎস্যজীবী ট্রলার দের সহযোগিতায় বঙ্গোপসাগরে উপকূল থেকে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশ মৎস্যজীবীকে উদ্ধার করা হয়েছে। বেশিরভাগ মৎস্যজীবী সুস্থ রয়েছেন। "অতিথি নারায়ন"। অতিথি আপ্যায়নে কোনরকম ত্রুটি রাখা হচ্ছে না। বেশ কয়েকজন মৎস্যজীবী এখনো পর্যন্ত কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে তাঁরাও খুব দ্রুতই সুস্থ হয়ে যাবেন। বাংলাদেশি মৎস্যজীবীদের দেশে ফেরানোর জন্য উদ্যোগী হয়েছে ভারত বাংলাদেশ দুই দেশের সরকার।
