নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়িঃ বাবা পেশায় আইসক্রিম বিক্রেতা। এই পেশা থেকেই অর্থ উপার্জন করে কোনরকমে দুই মেয়েকে পড়াশোনা করান তিনি। অভাবের সংসার হওয়ার সত্ত্বেও মেয়েদের পড়াশোনার খরচের কোন ত্রুটি রাখেনি তিনি। কথায় আছে কষ্ট করলে কেষ্ট মেলে। আর সেই কেষ্ট মিলল মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর। শিলিগুড়িতে আইসক্রিম বিক্রেতার মেয়ে কল্পনা রায়ের এবারের মাধ্যমিকে প্রাপ্ত নম্বর ৫৯৯। নিজের স্কুলে প্রথম স্থান অধিকার করেছে সে।
{link}
শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন রাজগঞ্জ ব্লকের বিন্নগুরি অঞ্চলের ভুটকি সেল্টার বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা কল্পনা রায়। মা বাবা এবং বোনের সাথে বাঁশের বেড়া দেওয়া টিনের বাড়িতে বসবাস করে সে। তার বাবা গোপাল রায় গ্রামে ঘুরে ঘুরে আইসক্রিম বিক্রি করেন। আইসক্রিম বিক্রি করে যা উপার্জন হয় তাই দিয়েই সংসার খরচ ও দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালান তিনি। বড় মেয়ে কল্পনা ফুলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দেয়। শুক্রবার মাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হওয়ার পরেই সে জানতে পারে তার প্রাপ্ত নম্বর ৫৯৯। শুধু তাই নয়, ফুলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে সে। এই খবর জানাজানি হতেই গ্রাম জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে খুশির হাওয়া।
{link}
গোপাল বাবুর কোনো ছেলে নেই। তিনি জানান, তার মেয়েরাই তার ভবিষ্যত। মেয়ের এই সাফল্যে অনেকটাই খুশি বাবা ও মা। কল্পনা জানায়, পরীক্ষায় ভালো হবে এটা জানত, কিন্তু এত নম্বর পাবে বলে আশা করেনি। তার মা বলেন, অভাবের সংসার। আর্থিক অনটনের কারণে মেয়েদের ভালো করে টিউশনও দিতে পারেনি তারা। কল্পনার ইচ্ছে, ভবিষ্যতে সে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়বে। কিন্তু সেই বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে মেয়েকে পড়াশোনা করানোর মতো অর্থ নেই কল্পনার বাবার, সেই কারনেই গতকাল সরকারের থেকে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন তিনি। অভাবের সাথে লড়াই করে তার এই সাফল্যকে কুর্ণিশ। বর্তমান সময়ের হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীকে লড়াই করার অদম্য সাহস জুগিয়ে গেল সে… দিয়ে গেল প্রেরনা, ‘হাল ছেড়োনা বন্ধু!”
