সুদেষ্ণা মন্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে আজও কিছু মানুষ সাপে কামড়ানোর পর হাসপাতালে না গিয়ে ওঝা গুণিনদের কাছেই ছুটে যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তার নিদর্শন মিলল আবারও। সাপের কামড়ে মৃত্যু হল এক তিন বছরের শিশু কন্যার। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিন ২৪ পরগনার বাসন্তী থানার অন্তর্গত জ্যোতিষপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রানীগড় গ্রামে। ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে ঋতু বর্মণ নামে ঐ শিশুটিকে পরিবারের সদস্যরা নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
{link}
স্থানীয় সূত্রের খবর, বাসন্তী থানার অন্তর্গত রানীগড় গ্রামের বাসিন্দা ছোট্ট ঋতু রাতে খাওয়া দাওয়া করে বাবা মায়ের সাথেই ঘুমিয়েছিল। কিন্তু গভীর রাতে হঠাৎ ঋতু যন্ত্রণা অনুভব করে চিৎকার করে উঠলে তার বাবা জয়দেব বর্মণ দেখেন বিছানায় একটি কালাচ সাপ। এরপর তড়িঘড়ি সাপটিকে মেরে ফেলেন তারা। মেয়েকে সাপে কামড়েছে ভেবেই তাকে নিয়ে স্থানীয় এক ওঝার কাছে যান। সেখানে দীর্ঘক্ষণ ধরে চলে ঝাড়ফুঁক, তুকতাক। কিন্তু দীর্ঘ সময় নষ্ট হলেও কোনভাবেই ঋতু সুস্থ না হওয়ায় এবং তার অবস্থার অবনতি দেখে তড়িঘড়ি তাকে বাসন্তী ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। সেখানের চিকিৎসকরা যথাসাধ্য প্রাথমিক চিকিৎসার পর ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন শিশুটিকে। কিন্তু সেখানে নিয়ে আসার পথেই মৃত্যু হয় ঋতুর।
{link}
চিকিৎসকদের দাবি, সাপে কামড়ের পর তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এলে হয়তো শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হত। এক্ষেত্রে ওঝা, গুণিনের কাছে গিয়ে অনেক বেশি সময় নষ্ট করার জন্যই মৃত্যু হয়েছে শিশুটির। এই ঘটনার ফলে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রযুক্তির যুগেও এখনও মানুষ কুসংস্কারের ওপর বিশ্বাসী। এখনও কুসংস্কার পিছু ছাড়েনি মানুষের। কিন্তু কেন, প্রশ্ন উঠছে এখানেই। যেখানে একদিকে উন্নত দেশগুলিতে ক্যানসারের পর্যন্ত মারনব্যাধীর ঔষধও আবিষ্কার হয়ে গিয়েছে, সেখানেই ভারতবর্ষের পশ্চিমবঙ্গের এক প্রান্তে নেহাতই কুসংস্কারের জেরে হারিয়ে যাচ্ছে কিছু নিস্পাপ প্রান। শিক্ষাগত প্রসার হয়েছে, তবে তা যে আজও কার্যত সম্পূর্নতা প্রাপ্ত করতে ব্যর্থ, সেটাই যেন আরও একবার চোখে আঙুল তুলে দেখিয়ে দিল ছোট্ট ঋতুর পৃথিবী থেকে অসময়ে বিদায় নেওয়ার ঘটনা।
