নিজস্ব সংবাদদাতা,হুগলীঃ দীর্ঘ ১৪বছর ধরে চলা অবৈধ সম্পর্কের পর্দাফাঁস। সম্পর্ক প্রকাশ্যে চলে আসায় তুলকালাম চুঁচুড়ার সিংহি বাগানের নতুনপাড়া এলাকায়। স্ত্রী-সন্তান সহ প্রতিবেশীরা হাতেনাতে ধরে ফেলায় দু'পক্ষের মধ্যে চললো হাতাহাতি। বাবাকে নিতে এসে রীতিমত আহত হলো ছেলে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, চুঁচুড়ার সিংহি বাগানের নতুনপাড়া এলাকায় ২০০৮ সাল থেকে বসবাস করছেন রেল পুলিশের কর্মী মনোতোষ কান্তি দাস (৫৫)। সেখানে তার সঙ্গে থাকতেন এক মহিলা ও দুই ছেলে।
{link}
স্বাভাবিক ভাবেই সিংহি বাগান এলাকার মানুষরাও ভেবেছিলেন এটা মনোতোষ বাবুরই পরিবার। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ভূল ভাঙলো স্থানীয় বাসিন্দাদের। মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ করেই জনা কয়েক মানুষ উদয় হয় সেখানে। তারা দাবী করেন মনোতোষবাবু আদতে নদীয়ার সিমুরালির বাসিন্দা। সেখানেই তার স্ত্রী, এক পুত্র ও কন্যা সন্তান রয়েছে। কিন্তু ২০০৮ সাল থেকে তিনি সিমুরালির বাড়িতে যান না বলেই তাদের অভিযোগ। তাদের আরও অভিযোগ, তিনি সংসারের জন্য টাকাও পাঠাতেন না। ২০১৯ সালে তার স্ত্রী আর.পি.এফ দপ্তরে অভিযোগ করেন। তারপর থেকে প্রতি মাসে ১০হাজার করে টাকা পাঠালেও সিমুরালির বাড়িতে তিনি সেভাবে যেতেন না। যখনই তিনি সিমুরালিতে যেতেন তখনই বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ধার করে নিয়ে আসতেন। প্রথমদিকে টাকা শোধ দিলেও ২০১৯সালের পর থেকে সিমুরালিতে যাওয়া একেবারেই কমিয়ে দেন তিনি। ফলে তার পরিবারের উপর পাওনাদারদের চাপ বাড়তে থাকে। তাই বেশ কিছুদিন ধরে তার পিছনে গোপনে খোঁজ রাখা শুরু করে তার পরিবার। বহু জায়গা ঘুরে অবশেষে মঙ্গলবার সকালে মনোতোষের পরিবার ও শিমুরালির বাসিন্দারা পৌঁছে যান চুঁচুড়ার সিংহিবাগানের নতুন পাড়ায়। সেখানে একটি একতলা সুদৃশ্য পাকা বাড়িতে এসে চক্ষু চড়কগাছ তার পরিবারের। তার সাথে যে মহিলা ও দুই পুত্র রয়েছেন বিগত দিনে তিনি তাদেরকে একাধিকবার অফিস কলিগ হিসাবে শিমুরালির বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন। শিমুরালির বাড়িতে ওই মহিলাকে তিনি পাতানো বোন হিসাবেই পরিচয় দিয়েছিলেন।
{link}
বিষয়টি জানতে পেরে চোখ ছানাবড়া সিংহি বাগান এলাকার বাসিন্দাদেরও। তাদের বক্তব্য, এত বছর তারা জানতেন ওটাই তার পরিবার। এই নিয়েই চাপা উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এলাকায়। মনোতোষবাবুকে তার স্ত্রী ও সন্তানরা বাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে দুপক্ষের মধ্যে শুরু হয় হাতাহাতি। একটা সময় তাকে নিয়েই শুরু হয় টানাটানি। ঘটনায় আহত হন শিমুরালিতে থাকা মনোতোষের ছেলে সহ প্রতিবেশীরা। পরে তাদেরকে চুঁচুড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।
.jpeg)
