Logo

সময়ের সম্মুখে

শেফিল্ড টাইমস

ডিজিটাল

Date: 10/06/2026 E-Paper
Advertisement
Care and Cure 1

জ্যোতি বসুর আমলে ঘটে যাওয়া নৃশংস কিছু ঘটনা, যা আজও তাড়া করে ফেরে বামেদের

Loading... রাজ্য
জ্যোতি বসুর আমলে ঘটে যাওয়া নৃশংস কিছু ঘটনা, যা আজও তাড়া করে ফেরে বামেদের
#news #CPIM #Politics #Jyoti Basu #Communist #Party of India #feature #জ্যোতি বসু #হত্যাকান্ড #খুন

২১-এর ভোটের ফলাফলের পর রাজ্যের বিধানসভায় বামেদের আসন হয়ে দাঁড়িয়েছে ০। কিন্তু একসময় তো বাংলায় একছত্র দাপট ছিল বামেদের। সেই ৩৪ বছরের টানা শাসনকালের গল্প সকলেরই জানা। এ রাজ্যে বামেদের ৩৪ বছরের মৌরসিপাট্টায় যবনিকা পতন হয় ২০১১ সালে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বামেদের কফিনে শেষ পেরেকটি পোঁতেন। তার জেরে আর ভাঙা কোমর নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি বামেরা। এই ৩৪ বছরের বাম আমলে বহু সুনাম যেমন লাল-দুর্গ কুড়িয়েছে, তেমনই কুড়িয়েছে দুর্নামও। বামেদের শাসনকালের দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় ছিলেন জ্যোতি বসু। তাঁর আমলের তিন নৃশংস ঘটনা আজও তাড়া করে ফেরে বামেদের। 

{link}
বাম সরকার ক্ষমতায় আসে ১৯৭৭ সালে। তার ঠিক দু বছর পরে ঘটে মরিচঝাঁপি হত্যাকাণ্ড। বাংলাদেশের দলিত সম্প্রদায়ের প্রচুর মানুষ দেশ ভাগের পর আশ্রয় নিয়েছিলেন সুন্দরবনের মরিচঝাঁপি দ্বীপে। ১৯৭৯ সালে আচমকাই সেই দ্বীপ ঘিরে ফেলে বাম সরকারের পুলিশ। দ্বীপ থেকে উদ্বাস্তুদের উচ্ছেদের নামে চলে দমন পীড়ন। দ্বীপবাসীরা যাতে খাবার কিংবা জল না পান সেজন্য পুলিশ ঘিরে ফেলেছিল গোটা দ্বীপ। অনাহার এবং জলকষ্টে বহু মানুষের মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। ৩১শে জানুয়ারি আচমকাই দ্বীপে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায় পুলিশ। উদ্বাস্তুর রাঙা খুনে লাল হয় দ্বীপ। প্রাণ হারান বহু মানুষ।


মরিচঝাঁপির মানুষের রক্তের দাগ শুকোনোর আগে ফের ঘটে বিজন সেতু হত্যাকাণ্ড। ১৯৮২ সালের ৩০শে এপ্রিল কলকাতার বালিগঞ্জের বিজন সেতুতে ১৭ জন আনন্দমার্গীকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ। প্রথমে পিটিয়ে ও পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গায়ে আগুন লাগিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় ১৬ জন সন্ন্যাসী ও একজন সন্ন্যাসিনীকে। দুপুরের ঠা ঠা রোদে দাঁড়িয়ে সে দৃশ্য দেখে শিউরে উঠেছিলেন আম-কলকাতাবাসী। 

{link}
পুলিশের উর্দিতে লেগে থাকা রক্তের সেই দাগ ভালো করে শুকনোর আগে ফের আরও এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল কলকাতার রাজপথে, মহাকরণের সামনে। ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই মহাকরণ অভিযানের ডাক দেয় যুব কংগ্রেস। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আচমকাই গুলি চালায় পুলিশ। রক্তে লাল হয়ে যায় গলি থেকে রাজপথ। মৃত্যু হয় ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর।


জ্যোতি বসু প্রয়াত হয়েছেন কিন্তু রয়েছেন বামেরা। আর রয়েছে জ্যোতি বসুর আমলে ঘটে যাওয়া নৃশংস কিছু ঘটনা। যা আজও তাড়া করে ফেরে বামেদের। যে প্রশ্নের উত্তরে আজও পরিস্কার ভাবে কিছু স্পষ্ট কথা বের হয়না বাংলার কমরেডদের মুখ থেকে। জামায় অদৃশ্য হলেও যে দাগ লেগেছে তা মুছে ফেলা হয়ে পড়েছে অত্যন্ত কঠিন। কিছু স্মৃতি যেমন মানুষের পিছু কোনদিন ছাড়েনা… তেমনই বঙ্গ কমরেডদেরও এই স্মৃতি কোনদিন পিছু ছাড়েনি… আর হয়ত ছাড়বেও না। 


 

সর্বশেষ আপডেট: