নিজস্ব সংবাদদাতা,নদীয়াঃ জানো যদি কিসে নারীর মুক্তি , চিনে নাও তার অজেয় শক্তি। শারীরিক অক্ষমতার কারণে ছোট থেকেই চলাফেরা করতে পারে না বছর পনেরোর একটি মেয়ে। কিন্তু শারীরিক অক্ষমতা বাধা দিতে পারেনি তার পড়াশোনায়। তাই হুইল চেয়ারে বসেই এবার মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে নদীয়ার প্রিয়াঙ্কা পাল।
{link}
প্রিয়াঙ্কা পালের বাড়ি নদীয়ার তাহেরপুর থানার বাদকুল্লা উত্তর সুরভীস্থানে। বাদকুল্লা ভুবনমোহিনী গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী সে। ছোট থেকেই তার পড়াশোনার প্রতি অদম্য আগ্রহ। প্রিয়াঙ্কা যখন ছোট ছিল তখন থেকেই তার পরিবার অনেক চেষ্টা করেছিল তাকে শারীরিক দিক থেকে সুস্থ করে তোলার জন্য। অনেক চেষ্টা করেও শেষপর্যন্ত বিফলে গেলেন তারা। মেয়ে আর পাঁচটা ছেলে মেয়ের মত স্বাভাবিক না হলেও মনের জোর অন্যদের থেকে অনেকটাই বেশি। আর সেই আগ্রহ আর জোর নিয়েই ধাপে ধাপে ক্লাস অতিক্রম করে এবার সে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছে। নিজে না লিখতে পারলেও মুখে সে সব উত্তর বলে দিচ্ছে। যদিও পর্ষদের অনুমতিতে তার জন্য রাখা হয়েছে একজন রাইটার। আগামীদিনে তার স্বপ্ন সে আরো পড়াশোনা করতে চায়। উচ্চমাধ্যমিক অতিক্রান্ত করে কলেজ পাশ করে উচ্চ শিক্ষিত হওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তার মধ্যে।
{link}
তাকে সাহায্য করার কোন খামতি রাখে না তার মা-বাবা সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকারা। প্রিয়াঙ্কার জন্য তার পরিবার রেখেছেন আলাদা করে গৃহশিক্ষক। প্রিয়াঙ্কা পাল এর পড়াশোনার উৎসাহ দেখে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও এগিয়ে এসেছেন। তারাও আগ্রহের সঙ্গে চাইছেন প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রিয়াঙ্কা পাল যেন সমাজের দৃষ্টি স্থাপন করতে পারে। নারী শব্দটাই তো শক্তির সঙ্গে জড়িত, যা প্রিয়াঙ্কার মত মেয়েরা বারেবারে প্রমাণ করে দেয়। নারী দিবসের দিন এমন ছাত্রীকে আমরাও কুর্নিশ জানাই। প্রিয়াঙ্কা পাল তার মনের শক্তি দিয়ে আরো এগিয়ে যাক।
