সুদেষ্ণা মন্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ শীতকালের শত্রু তুমি গ্রীষ্মকালের সখা, এতদিন কোথায় ছিলে বলো দেখি………পাখা। তীব্র গরমে পুড়ছে বাংলা। গরমের হাঁসফাঁস থেকে রেহাই মিলতে হাত পাখার জুড়ি মেলা ভার। তারইমধ্যে এই গরমেও ব্যস্ততা তুঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্থি থানার দেউলা গ্রামের সেখপাড়ায়। রাতদিন এক করে তাল পাতা দিয়ে হাত পাখা তৈরী করছেন এই এলাকার মানুষ। গরমে বেড়েছে হাত পাখার চাহিদা। তাই হাত পাখার জোগান দিতে ব্যস্ত সেখ পাড়ার বাসিন্দারা।
{link}
বংশ পরম্পরায় তাল পাতার পাখা তৈরীকে নিজেদের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন এলাকার মানুষ। শীত শেষ হলেই এই এলাকায় তাল পাতার পাখা তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়। যে হাত পাখায় আমরা হাওয়া খাই সেই পাখা তৈরী করতে লাগে অনেক মেহনত। তাল গাছের কাটা পাতাকে জলে ডুবিয়ে রেখে জাঁক দিয়ে পাতাকে সোজা করা হয়। তারপর সেই পাতাকে ঠিকমত করে কেটে সরু লম্বা কাঠি দিয়ে বেঁধে রং করা হয়। এই সমস্ত পর্বের মধ্য দিয়ে পাখা তৈরি হওয়ার পরেই তা বিপণনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে প্রযুক্তির যুগে হারিয়ে যাচ্ছে তাল পাতার হাত পাখার ব্যবহার। ফলে আগের মত বিক্রি নেই এই হাত পাখার। অন্যদিকে বাজারে এসেছে কম দামের প্লাস্টিকের হাত পাখা। যার ফলে বিক্রি কমেছে তাল পাতার তৈরী পাখার। তাই অনেকেই বর্তমানে নিজেদের তাল পাতার হাত পাখা তৈরীর কাজ বন্ধ করে যুক্ত হয়েছেন অন্য পেশায়। শেখ পাড়ার বাসিন্দা হাফিজুল শেখ ছোট থেকেই তাল পাতার পাখা তৈরি করে আসছেন। এক সময় বাপ ঠাকুরদার হাত ধরে তিনিও পাখা তৈরীর কাজ শুরু করেছিলেন। এখন তার হাত ধরে এই কাজে যোগ দিয়েছেন তার স্ত্রী ও ছেলে মেয়েরাও। আগে দেউলার শেখ পাড়া থেকেই পাকা পৌঁছে যেত নেতড়া, বাসুলডাঙা, মগরাহাট ও ডায়মন্ড হারবারের হাট ও বাজারে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা কমতে শুরু করেছে এই হাত পাখার। তাই পাখা তৈরী করেও লাভের মুখ দেখছেন না কারিগরররা।
{link}
প্রযুক্তির কল্যাণে এসি, কুলার,ফ্যান ব্যবহারের ফলে বাঙালির চিরাচরিত তাল পাতার তৈরী হাত পাখার বিক্রি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন তারা। তা ছাড়া প্লাস্টিকের পাখা বাজার ছেয়ে যাওয়ায় তাল পাতার পাখার চাহিদাতেও ভাটা পড়েছে। খোলা বাজারে হাতে তৈরী পাখার আনুমানিক মূল্য পঁচিশ থেকে ত্রিশ টাকা। কিন্তু সেই জায়গায় প্লাস্টিকের পাখা পাঁচ থেকে দশ টাকা দাম। ফলে মানুষও প্লাস্টিকের পাখার দিকেই ঝুঁকছেন। আগের থেকে চাহিদা কমায় অর্ডার থাকলে তবেই পাখা বানাচ্ছেন উস্থির শেখ পাড়ার বাসিন্দা। তবে দিনদিন এই কুটিরশিল্প মুখ থুবড়ে পড়ায় অনেকেই পাখা তৈরীর কাজ ছেড়ে অন্য কাজ শুরু করেছেন। যার ফলে অবলুপ্তির পথে প্রাচীন এই কুটির শিল্প।
{ads]
