নিজস্ব সংবাদদাতা, নদীয়াঃ সারা বিশ্ব জুড়ে অবাধে গাছ কাটার দরুণ বাড়ছে পরিবেশ দূষণ। অরণ্য বাঁচাতে বিশ্ব তথা গোটা রাজ্য জুড়ে চলছে অরণ্য বাঁচানোর প্রচেষ্টা। তাসত্ত্বেও বেআইনি ভাবে গাছ কাটার নির্দশন মিলেছে বহুবার। এবার নির্মম ভাবে গাছ কাটার নির্দশন মিলল শান্তিপুর ব্লকের বেলঘড়িয়া এক নম্বর পঞ্চায়েতের অন্তর্গত খেজুরতলা পাড়া এলাকায়। তিলে তিলে প্রতিদিনই একটি দুটি করে গাছ কাটতে কাটতে ২০ টি ফলন্ত আম গাছকে কেটে হত্যা করে ধ্বংস একটি গোটা আমবাগান। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও প্রশাসনের নেই কোন ভূমিকা।
{link}
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরেই আম বাগানের মালিক নরেশ সরকার তার বাগানের কুড়িটি ফলন্ত আমগাছ কাঠ মাফিয়া দের সাথে চুক্তি করে বিক্রি করে দেয়। এরপর প্রতিদিনই একটা দুটো করে আমগাছ কাটা শুরু হয়। রাতের অন্ধকার থেকে শুরু করে দিনের আলোয় অবাধে ফলন্ত আম গাছগুলি কেটে পরিষ্কার দেন গোটা একটি আম বাগান। জানা যায়, মঙ্গলবার গোটা আম বাগান কেটে পরিষ্কার করে ফেলা হয়। দিনের আলোয় প্রকাশ্যে কাটা আম গাছের ডালপালা সহ গুড়িগুলি নিয়ে যাওয়া হয় গাড়ি লোড করে। তবে প্রকাশ্যে গোটা আম বাগান কেটে ফেলার ঘটনায় প্রশাসনকে কোনরকম তৎপর হতে দেখা যায়নি বলেই স্থানীয়দের অভিযোগ। কাঠ মাফিয়া দের প্রশ্ন করলে এড়িয়ে যান তারা। যদিও প্রতিবেশীরা মৃদু প্রতিবাদের সুরে বলেন গাছ কাটা অপরাধজনক। কিন্তু এই ধ্বংসলীলা চোখের সামনে দেখা ছাড়া আর কিছুই উপায় নেই তাদের।
{link}
তবে এই বিষয়ে বনদপ্তরের অনুমতি আছে কিনা এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টায় সারা রাজ্য জুড়ে চলছে অরণ্য সপ্তাহ পালন। এই অরণ্য সপ্তাহ পালনের মধ্যে দিয়ে প্রত্যেক বিধায়কদের হাত দিয়ে বিলি করা হচ্ছে গাছের চারা। একদিকে সবুজকে ধ্বংসের মুখ থেকে বাঁচাতে একের পর এক সরকারি উদ্যোগ, অন্যদিকে দিনের আলোয় গোটা একটি আমবাগানকে কেটে ধ্বংস করে ফেলার ঘটনায় নীরব প্রশাসন। তবে এ বিষয়ে ওই এলাকার পঞ্চায়েত প্রধানকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, সংবাদ মাধ্যমের দ্বারা তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ওই এলাকার মানুষ তাকে কিছুই জানায়নি। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তিনি যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করবেন।
.jpeg)
