সুদেষ্ণা মন্ডল , দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ পৌরাণিক কাহিনীর কথা মাথায় রেখে মৃতদেহ সৎকার না করেই ভাসানো হলো গাঙের জলে। ঠিক যেমনটা মনসামঙ্গল কাব্যে রচিত আছে। সাপের কামড়ে মৃত স্বামীর প্রাণ ফিরে পেতে ভেলায় চড়ে স্বর্গে গিয়েছিলেন বেহুলা। স্বর্গ থেকে নিজের স্বামীর প্রাণও ফিরিয়ে আনেন সতী বেহুলা। এরপর থেকেই গ্রামবাংলায় মনসামঙ্গল কাব্যের সেই রচিত কাহিনী প্রথা হিসাবে চলে আসছে। সেই প্রথার নিদর্শনও মিলেছে দক্ষিন ২৪ পরগনার সুন্দরবনের সাগর ব্লকের মৃত্যুঞ্জয়নগর এলাকায়।
{link}
সাপের কামড়ে মৃত ব্যক্তিদের দেহ সৎকার না করে কলার ভেলায় মৃতদেহ ভাসিয়ে দেওয়া হয় নদীর জলে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতি হওয়ার পরেও এখনও গ্রামবাংলার মানুষের মন থেকে যায়নি মনসামঙ্গল কাব্যের কাহিনী। বিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এখনও রয়েছে মানুষের মধ্যে গোঁড়ামির ছায়া। সাপের কামড়ে মৃত বালিকার দেহ সৎকার না করেই কলার ভেলায় চাপিয়ে ভাসিয়ে দেওয়া হল নদীর জলে। মঙ্গলবার দুপুরে বিষধর কেউটে ছোবল দেয় আট বছরের শ্রাবণী মালাকারকে। এরপর তার বাড়ির লোক জানতে পেরে তৎক্ষণাৎ তাকে নিয়ে যায় প্রতিবেশী ওঝার কাছে। সেখানে কিছু না হওয়ায় তারপর তাকে নিয়ে যায় সাগর ব্লক হাসপাতালে। চিকিৎসকরা অ্যান্টিভেনাম ইঞ্জেকশনও দেয়। কিন্তু তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
{link}
এরপর তার মৃতদেহ ফিরিয়ে আনা হয় বাড়িতে। প্রচলিত বিশ্বাসের জেরে তার মৃতদেহ পাশের মুড়িগঙ্গা নদীতে কলার ভেলাতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। পরিবার ও প্রতিবেশীদের বিশ্বাস, নদীর নোনা জলে সাপে কামড়ানো শ্রাবণীর আবার প্রাণ ফিরবে। মঙ্গলবার রাতে ভেলাটি ভাসিয়ে দেওয়ার পর বুধবার ভেলাটি পুনরায় ফিরে এসেছে । আর তাই নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। একুশ শতকে দাঁড়িয়ে পুরান কাব্যের ছায়ায় রীতিমত হইচই পড়ে গিয়েছে পুরো এলাকায়। ভেলাটি দেখতে প্রচুর মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। কিন্তু ফুটফুটে মেয়েটির নিথর দেহে প্রাণ সঞ্চার হয়নি।
