নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনাঃ টাকা দেওয়ার নাম করে এক যুবককে অপহরণ করল দুষ্কৃতীরা। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে হাওলাদারের টোপ দিয়ে ভাইজ্যাক থেকে অপহৃত কে উদ্ধার করল সোনারপুর থানার পুলিশ।
{link}
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা ঊষারানী কর্মসুত্রে কলকাতা সোনারপুরে থাকেন। তিনি তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে জব প্লেসমেন্টের কাজ করেন। বেশ কিছু জনকে ওই মহিলা চাকরি দিয়েছিলেন। তারই কমিশন বাবদ বেশ কিছু টাকা তিনি পেতেন। এরপর একদিন এক ব্যাক্তি ওই মহিলাকে ফোনে বলেন, হাওড়াতে লোক পাঠালে বকেয়া ৭ লক্ষ টাকা দিয়ে দেবেন তারা। সেইমত ৯ই জুন ঊষারানী দেবী তার ভাই পুক্কালি আমিন কে টাকা আনতে পাঠান। সেখানে একটি হোটেলে গেলে রুমের ভিতর ঢুকিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় ও জোর করে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বেহুঁশ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তারপর একটি গাড়িতে করে তাকে নিয়ে চলে যাওয়া হয় অন্ধ্রপ্রদেশ। এই ঘটনায় ১২ই জুন সোনারপুর থানায় অপহরণের অভিযোগ দায়ের করেন ঊষারানী। ঘটনার তদন্তে নেমে সোনারপুর থানার পুলিশের একটি টিম অন্ধ্রপ্রদেশ যায়। ইতিমধ্যেই পুক্কালি আমিনের বাড়িতে ফোন করে ৭০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। টাকা দ্রুত পাওয়ার জন্য পুক্কালিকে মারার ভিডিও পাঠানো হয় তার পরিবারের লোকজনদের কাছে।
{link}
এরপর পুলিশ অন্ধ্রপ্রদেশে পৌঁছে স্থানীয় এক অটোচালককে নিয়োগ করে। জানা যায়, ওই অটোচালক সেই কিডন্যাপারদের সাথে পুলিশের কথামত কথা বলতেন। এরপর অভিযুক্তদের মুক্তিপনের টাকা দেওয়ার জন্য একটি হোটেলে ডাকা হয়। সেখানেই পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় অপহৃতকেও। ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে এদিন সোনারপুরে নিয়ে আসে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই ঘটনায় আরও অনেকে যুক্ত। আপাতত পুলিশ তাদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।
