নিজস্ব সংবাদদাতা, মুশির্দাবাদঃ গার্লস হস্টেল, সকাল সকাল তারই সামনে দাঁড়িয়ে একজন, পরনে বোরখা, অস্থির ভাব। লক্ষ্য গার্লস হস্টেলে প্রবেশ করা, হয়ত দেখা করবেন কারুর সাথে। গার্লস হস্টেলে একজন মেয়ের সাথে আরেকজন মেয়ে দেখা করবে… তাতে সমস্যা কোথায়? আসলে সমস্যাটা অন্য যায়গায়, বোরখা পরনে দাঁড়িয়ে থাকা মূর্তির হাবভাব দেখে কিছুটা সন্দেহ হয় হস্টেলের নিরাপত্তারক্ষীদের। পায়ের দিকে চোখ যেতেই আরও সন্দেহ বাড়ে। এটা কি আদৌ কোন মহিলার পা? বোরখার মুখের ঢাকা সরাতেই চক্ষু চড়কগাছ! বোরখার আড়ালে রয়েছেন একজন যুবক।
{link}
আসলে সুদূর হলদিয়া থেকে শুধুমাত্র প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে মুশির্দাবাদে হাজির হয়েছিলেন তিনি। প্রেমের টান যে মানুষকে কি করাতে পারে আরও একবার মিলল তার প্রমান। যদিও হাতেনাতে ধরাও পড়ে যান তিনি হোস্টেল কর্তৃপক্ষের তৎপরতায়। অভিযুক্ত যুবকটির নাম প্রিয়রঞ্জন জানা। শুক্রবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে বহরমপুরের গোরাবাজার এলাকায়। যদিও ব্যাপারটি শুনে অনেকটা বা বেশ মজার মনে হলেও তা নয়, কারন ধরা পরে যাওয়ার পর ছেলেটিকে রীতিমতো মারধর করা হয়, তারপর তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার উদ্দেশ্যে নিয়ে গেছে ছেলেটির প্রেমিকাকেও। মেয়েটির সঙ্গে প্রিয়রঞ্জনের মাত্র ৭ দিনের সম্পর্ক। ফেসবুকের মাধ্যমে আলাপ হয় তাদের।ছেলেটি বহরমপুরেরই বাসিন্দা, তবে পড়াশোনা সুত্রে সে কলকাতায় থাকেন। কলকাতার একটি কলেজে পড়াশোনা করেন প্রিয়রঞ্জন।
{link}
স্থানিয়রা জানান, তারা সকালে হোস্টেলের সামনে বোরখা পরে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। ছেলেদের জুতো দেখে তারা বুঝতে পারেন বোরখা পরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি কোনো মহিলা নয়, সে পুরুষ। এরপরই তারা ছেলেটিকে ধরেন এবং খবর দেন হোস্টেল কর্তৃপক্ষকে। হোস্টেল কর্তৃপক্ষ খবর দেয় থানায়।স্থানীয় মানুষজন ও হোস্টেল কর্তৃপক্ষ মিলে অভিযুক্ত যুবকটিকে ধরে রেখে মারধর করা হয়। পুলিশ এসে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায় অভিযুক্ত ছেলে ও মেয়েটিকে। একজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবী, অভিযুক্ত ছেলে ও মেয়েটিকে যথাযথ শাস্তি দেওয়া হোক। যাতে পরবর্তিতে অন্য কেউ এমন বিশৃঙ্খল কাজ করার সাহস না পায়।
